সোমবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:১৫ পিএম


কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িতেছে

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:২৩, ২৫ জানুয়ারি ২০২০  

জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরের কথা বেশ জোরেশোরেই শোনা যাইতেছে। তাহার কারণ—বাংলাদেশের সামনে রহিয়াছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা তুলিয়া লওয়া। ইহা হইল, জনসংখ্যার অনুপাতের এমন একটি অবস্থা, যেইখানে কর্মশীল মানুষের সংখ্যা বেশি হইয়া থাকে, যাহার ফলে ঐ নির্দিষ্ট সময়কালে রাষ্ট্রের উত্পাদনশীলতা পূর্বের ও পরের সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পাইয়া থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের ০-২৫ বছর বয়সি মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ। বিপুল এই তরুণ সমাজকে দক্ষ করিয়া তোলা হইলে নিশ্চিতভাবেই রাষ্ট্র তাহার সুবিধা পাইবে। তবে সেই ক্ষেত্রে পূর্ব হইতেই সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত লইতে হইবে তাহাদের শিক্ষার ধরন কেমন হইবে।

বর্তমানে শিক্ষার যে চল দেশে চলিতেছে তাহা দক্ষ ও যুগোপযোগী কর্মশক্তি তৈরি করিতে পারিতেছে না। তরুণদের একটি বড়ো অংশ যেই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করিতেছে, দেখা যাইতেছে শ্রমবাজারে সেই বিষয়ের কোনো চাহিদা নাই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বর্তমানে দক্ষ জনশক্তির অভাব রহিয়াছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের দক্ষ জনশক্তির একটি বড়ো অংশ আসে কোরিয়া, চীন, ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ বাহিরের দেশ হইতে। যাহারা আমাদের দেশের গার্মেন্টস, সিরামিক, ঔষধ, ভৌত-অবকাঠামোসহ বিভিন্ন শিল্পে কাজ করিয়া থাকেন। প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এই সকল বিদেশি দক্ষ জনশক্তির পিছনে ব্যয় করিতে হইতেছে। এই সংকট মোকাবিলা করিতে হইলে দেশে কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিতে হইবে। যেইখানে উন্নত দেশগুলোতে ৬০ শতাংশ বা তাহারও বেশি শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করিয়া থাকে, সেইখানে আমাদের দেশে এই হার ১৫ শতাংশের কম।

বঙ্গবন্ধু কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়া ‘কুদরাত-এ-খুদা’ শিক্ষা কমিশন গঠন করিয়াছিলেন। ১৯৭৫-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তাহা আর আলোর মুখ দেখে নাই। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি কারিগরি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় ২০ হাজার ৫২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়াছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সরকার দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করিবার লক্ষ্যে ২০২১ সালের আগেই কারিগরি শিক্ষার হার ২০ শতাংশ করিবার এবং ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালে ৪০ শতাংশ করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ প্রণয়ন করা হইয়াছে। সরকারের গৃহীত এই সকল পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে উত্সাহ সৃষ্টি করিতে হইবে। জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হইল, অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রছাত্রী কারিগরি শিক্ষামুখী হইয়া থাকে; কারিগরি শিক্ষার প্রতি সমাজের এই নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন ঘটাইতে হইবে। কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলিয়া ধরিতে হইবে।

বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হইতে মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করিতে যাইতেছে। লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। দেশের অভ্যন্তরে শিল্প উত্পাদন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাইতেছে। ফলে যে বিপুল দক্ষ কর্মশক্তির প্রয়োজন হইবে তাহা মিটাইতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকীয়

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর