বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২০ ৪:১৮ এএম


কারিগরিতে লোভনীয় পদে পদায়নের আবেদনে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:৩৬, ২১ জুন ২০২০  

কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের (ডিটিই) অন্যতম লোভনীয় পদ সহকারী পরিচালক (এমপিও)। এই পদের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত সংক্রান্ত কাজ করা হয়। সেই পদে নিয়োগ পেতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে অধিদফতরে অদ্ভুত এক আবেদনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। তাতে পরিচয়বিহীন এক ব্যক্তি নেত্রকোনা সরকারি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের (টিএসসি) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদায়ন চেয়েছেন উল্লেখিত সহকারী পরিচালক পদে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডিটিইতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি সাদা কাগজে ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শের অনুসারি কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে’ অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষামন্ত্রী বরাবর আবেদনটি করেছেন। তাতে নেত্রোকোনা টিএসসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শামছুর রহমানকে উল্লেখিত পদে পদায়নের জন্য আবেদন করা হয়। এতে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম ছাড়া আর কোনো পরিচয় উল্লেখ নেই। আবেদনে বলা হয়, তারা সবাই কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক-কর্মচারী। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে স্বাধীনতার পক্ষের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে শামছুর রহমানকে এমপিও শাখায় পদায়ন চান।

এ সংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে, আবেদনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ২৪ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর আছে। তিনি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটির ওপর। পরে সচিব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে জরুরিভিত্তিতে ফাইল উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সাধারণ ছুটিতে ফাইলটি এগোয়নি। পরে এরপর ৮ জুন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে শামছুর রহমানকে পদায়নের আবেদনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পাঠাতে ডিটিই মহাপরিচালককে চিঠি পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে জানতে শনিবার নেত্রকোনা টিএসসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলেন, ‘আমার নামে যে কেউ পদায়নের জন্য আবেদন করেছে সেটা আমিই জানি না, সেটা আপনি জানলেন কী করে? আর এ ধরনের আবেদনের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া কী আপনার কাজ?’ এছাড়া তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ডিটিই এবং কারিগরি সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারি কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে কোনো সংগঠন বা এই ধরনের কোনো নামও শোনা যায়নি। নামপ্রকাশ না করে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ এবং ডিটিইর কয়েক কর্মকর্তা জানান, সুনির্দিষ্ট পদের নাম উল্লেখ করে তাও লোভনীয় পদে পদায়নের জন্য এমন আবেদন এর আগে তারা দেখেননি। কেননা, এর আগে এই পদের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে এমপিওভুক্তিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগে বদলি করার ঘটনা আছে। অবৈধ এমপিওভুক্তিতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যায়।

এ প্রসঙ্গে ডিটিই মহাপরিচালক মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, একটি পদে পদায়নের আবেদনের ওপর প্রতিবেদন চেয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। সেটি নিয়ে কাজ চলছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর