শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২০ ১:২৮ এএম


কাজ হারাচ্ছে বেশি তরুণরাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:০০, ২৮ জুন ২০২০  

করোনাভাইরাসের কারণে তরুণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে। মানসিক স্বাস্থ্য দুর্বল হচ্ছে। কাজ হারাচ্ছে বেশি তরুণরাই। আবার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে। এরকম পরিস্থিতিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে `তরুণ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ` গঠনের প্রস্তাব এসেছে একটি আলোচনা সভায়।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ২২ মন্ত্রণালয়ের বাজেটে বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষের কাজ হবে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করা, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দেওয়া। এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশের জনমিতিক (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সুবিধা বোঝায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত `তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন :প্রেক্ষাপট ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন` শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় গতকাল শনিবার এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে জনপ্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, তরুণ উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন কর্মীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। সেজন্য একটা সহায়তা কাঠামো দরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি `ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি` করার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, পরিবর্তনের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাসফেরতদের প্রশিক্ষণ, বৃত্তি, মিডডে মিল বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। সরকারকে কিছু চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি বাজেটে তরুণদের জন্য নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ে একটি কর্তৃপক্ষ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ভবিষ্যতে অন্যরকম দিন আসছে। সেজন্য আগাম ধারণা ও উদ্যোগ নিতে সরকারসহ সবাইকে পরিকল্পনা, নীতি গ্রহণসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশ সবক্ষেত্রে তরুণদের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড `লো লেভেলে` খুব ভালো ব্যবহার হচ্ছে। সরকারের নীতি ও কর্মসূচিতে এ সুবিধা নেওয়ার উদ্যোগ বিশেষ নেই। এখনই এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক বিদিশা বলেন, করোনাকালে অর্থনৈতিক কারণে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধে সানেমের গবেষণা সহযোগী ইশরাত শারমীন বলেন, বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সুবিধা নিতে তরুণদের জন্য আলাদা বাজেট দরকার। পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন মো. ইলিয়াস বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে স্টার্টআপদের কর সুবিধার চেয়ে নীতি ও অর্থায়ন সুবিধা বেশি দিতে হবে। সানেমের রিসার্চ ফেলো মাহতাব উদ্দিন বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র হয়ে গেছে। তাদের সহায়তা করতে না পারলে ঝরে পড়া, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম বাড়তে পারে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর