শুক্রবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৫ পিএম


কলেজ পর্যায়ে প্রদর্শক পদ শিক্ষক হলেও কোন প্রমোশন নেই?

মো. আব্দুস সালাম, শিপলু

প্রকাশিত: ১০:০৫, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯  

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো-১৯৯৫ অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রী কলেজ পর্যায়ে ব্যবহারিক বিষয়ের প্রদর্শক পদ শিক্ষক পদমর্যাদা পদ।

তখন জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাইতো ও সরকার জারিকৃত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোতে লেখা থাকতো স্নাতকোত্তর পাস। অথবা কলামে লেখা থাকতো স্নাতক পাস। বেশির ভাগ প্রদর্শক স্নাতকোত্তর পাস যোগ্যতা দিয়ে প্রদর্শক পদে নিয়োগ নিয়েছে। অনেকে অথবা কলামে স্নাতক পাস যোগ্যতা নিয়ে প্রদর্শক পদে নিয়োগ নিলেও পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) করেছে। কলেজে যেখানে প্রায় শিক্ষক স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) করা। ফলে প্রদর্শক`রা স্নাতকোত্তর করা আছে বা পরে করেছে বা করছে।

বর্তমান বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী প্রদর্শকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সরাসরি স্নাতক পাস লেখা আছে। বর্তমান সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অধিকতর সংশোধন ও সংযোজন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন এর প্রতিনিধি সহ অন্যান্য প্রতিনিধি দ্বারা কমিটি করেছে।

বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক কলেজ গুলোর প্রদর্শকগণ চায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামোতে প্রদর্শকদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে শুধু গ্রেড পরিবর্তন নয়, প্রমোশন হোক, পরবর্তী উচ্চধাপ পদবী পরিবর্তন হোক। যাতে স্নাতকোত্তর পাস বা দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতার আলোকে প্রদর্শকগণ পরবর্তী ধাপ প্রভাষক হতে পারে।

গ্রেড/স্কেল পরিবর্তন এক বিষয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে নিদিষ্ট সময় পর পদ/পদবী পরিবর্তন অন্য বিষয়। একজন শিক্ষকের নিদিষ্ট বছর অতিক্রম করার পর অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী পদ/পদবী পরিবর্তন বা পদবী/ধাপ পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষকের পারিবারিক/সামাজিক মর্যাদা ও সন্মান নিহিত (সব জায়গায় বেতন বৃদ্ধি বা স্কেল বৃদ্ধি করা তাদের প্রধান বিষয় নয়)।

একজন প্রভাষক (গ্রেড/স্কেল নং ৯) হতে নিদিষ্ট মেয়াদ পর (গ্রেড/স্কেল নং ৮), তারপর সহকারী অধ্যাপক (গ্রেড/স্কেল নং ৭), তারপর সহযোগী অধ্যাপক (গ্রেড/স্কেল নং ৬) যেতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞতার আলোকে কলেজের প্রশাসনিক পদ/পদবী উপাধ্যক্ষ ও সর্বোচ্চ পদ/পদবী অধ্যক্ষ হতে পারে।

একজন প্রদর্শক গ্রেড/স্কেল নং ১০ (যা মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক স্কেল) চাকুরিতে যোগদান হতে দীর্ঘ প্রায় ২৫-৩০ বছর চাকুরি করে একই পদ যা প্রদর্শক পদ হতে অবসর যায়। নিদিষ্ট অনেক বছর পর গ্রেড/স্কেল নং ৯ পেলেও পদ/পদবী পরিবর্তন হয় না। ফলে প্রদর্শকদের মধ্যে কর্মজীবনে প্রমোশনহীনতা কাজ করে ও কর্মজীবনে একঘেয়েমি চলে আসা অস্বাভাবিক নয়।

যেখানে মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক (গ্রেড/স্কেল নং ১০) নিদিষ্ট অনেক বছর পর গ্রেড/স্কেল নং ৯ পান ও অভিজ্ঞতা আলোকে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদ/পদবী প্রধান শিক্ষক হতে পারছেন। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বা স্নাতক/ডিগ্রী স্তরের কলেজে একজন প্রদর্শক (শিক্ষক) (গ্রেড/স্কেল নং ১০) হয়েও কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও প্রদর্শক পদ/পদবীরা পরবর্তী প্রভাষক (৯ গ্রেড স্কেল) পদবীতে যেতে পারছেনা।
এজন্য বেসরকারি জনবল কাঠামোতে প্রদর্শক পদবী অভিজ্ঞতা বা উচ্চশিক্ষা অর্জন মাধ্যমে প্রভাষক পদবিতে যেতে পারে তার বিধিমালা/নির্দেশনা জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। তা না হলে প্রদর্শকদের সঙ্গে বৈষম্য বন্ধ হবে না। যা গণতান্ত্রীক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।

সরকারি চাকুরিতে যেখানে বিভিন্ন পদে প্রমোশন আছে, বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক (গ্রেড/স্কেল নং ১০) উচ্চপদে পদবীতে যেতে পারে, কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রী কলেজে নিয়োগ প্রাপ্ত-কর্মরত প্রদর্শক পদবী শিক্ষক (গ্রেড/ স্কেল নং ১০) গণরা পরবর্তী একধাপ উচ্চপদ প্রভাষক পদবীতেই যেতে কোন বিধিমালা লেখা নেই। চাকুরি জীবনে প্রদর্শক পদবীরা প্রদর্শকদের পরবর্তী উচ্চপদে যেতে বিধিমালা প্রণয়ন করা অতিপ্রয়োজন। তা হলে প্রদর্শকদের কর্মপৃহা বৃদ্ধি পাবে ও শিক্ষা ক্ষেত্রে একমাত্র প্রদর্শক পদবীদের পরবর্তী উচ্চপদ না পাবার বৈষম্য দূর হবে। কয়েকদশকে প্রদর্শক পদবীদের উচ্চপদে পদায়ন ও পরবর্তী পদ/পদবী না পাবার বিষয়টি কেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/শিক্ষক সংগঠন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দৃষ্টি গোচর হয়নি? শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া ও যথাযথভাবে জনবল কাঠামোতে প্রদর্শকদের পরবর্তী ধাপ/উচ্চতর স্তর পদ/পদবী লিখে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
(মতামত)

লেখক: ডিপ্লোমা (কম্পিউটার), এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)
প্রদর্শক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)
জয়লাজুয়ান ডিগ্রী কলেজ, শেরপুর, বগুড়া, বাংলাদেশ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর