সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯ ৫:১৩ এএম


কলেজে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রির কী দরকার, আমি জানি না: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:০৩, ১৯ মার্চ ২০১৯  

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজে সাধারণ বিষয়ে অনার্স (স্নাতক) ও মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ে পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। কয়েকটি কলেজের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলেজে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এসব ডিগ্রির কী দরকার, আমি জানি না।

সোমবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল্যায়ন প্রতিবেদন অবহিতকরণ সভায় শিক্ষা খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল মেয়াদি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ও অর্জনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে একজন কর্মকর্তা তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য সাধারণ শিক্ষার বদলে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সূত্র ধরে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রীও। এ সময় তিনি কলেজে পড়াশোনার মান ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের গভীরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সভার শুরুতে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জিত হওয়া ও পিছিয়ে থাকার চিত্র তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) এম শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কালে সবচেয়ে বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর কারণ বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে পরিকল্পনার একটা মিল ছিল। এ সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের পরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাংলাদেশের।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেকেই উচ্চমাধ্যমিকের পর আর উচ্চ শিক্ষায় যাচ্ছে না। তাদের ক্ষেত্রে কী হবে, সেটা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের দক্ষতা নিশ্চিত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কোনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল্যায়ন হলো এবং তাতে ভালো-মন্দ দুটি দিকই তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আত্মবিশ্বাস না থাকলে সরকারি দলিলে এভাবে অর্জন ও ব্যর্থতার চিত্র বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা যায় না।

বৈষম্য বৃদ্ধির বিষয়ে বলতে গিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মাথাপিছু জিডিপি যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে অনেক কম হারে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়ছে। এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে কয়েক বছর কর্মসংস্থান ভালো হয়েছে।

সব শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আগামী বছরগুলোতে বৈষম্য কমানো ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে বলে ।

আয় বৈষম্যের মতো দুঃখজনক পরিস্থিতি যাতে আর দেখতে না হয়, সেজন্য বিষয়টিকে গভীরভাবে দেখা হবে বলেও জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও নারী ক্ষমতায়নসহ বেশি কিছু খাতে ‘বিস্ময়কর উন্নতি’ হয়েছে। তবে ‘আয় বৈষম বাড়ছে’।

তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে যেখানেই যাই, সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তবে এই উন্নয়নের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা ও আয় বৈষম্য রয়েছে। আয় বৈষম্য দূর করতে সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি বিনিয়োগ করা হবে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর