শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ৬:০১ এএম


কলঙ্কিত এমসি কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:৫৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ফের আলোচনা-সমালোচনায়। আবার অপকর্মে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কয়েক কর্মী। স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে কলেজের ছাত্রাবাসে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলেন এক গৃহবধূ। গত শুক্রবার ওই বর্বরোচিত ঘটনার পর ক্ষোভ, নিন্দা আর ধিক্কারে সরব হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সংগঠন। অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি সবার। বন্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের থাকতে দেওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১২৮ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় এক কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে নগরীর শাহপরাণ থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে এজাহারে ছয় আসামির নাম রয়েছে, তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছে। নাম থাকা আসামিদের ছয়জনই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। যদিও এমসি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের কমিটি নেই, রাজনৈতিক কার্যক্রমও বন্ধ।

২০১৬ সালে এমসি কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর ক্যাম্পাসের ভেতরই খাদিজা বেগম নামের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ওই ঘটনার অভিযুক্ত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা। ওই বছরই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া আর সংঘর্ষে আলোচনায় আসে এমসি কলেজ। ২০১২ সালে শিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে আগুন দেওয়া হয় ছাত্রাবাসের ৪২টি কক্ষে। ওই অপকর্মেও নাম আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। ফের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো অপকর্মে নাম জড়ালো ছাত্রলীগ নামধারী কিছু দুর্বৃত্ত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, ১২ বছর ধরে এমসি কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রমও নেই। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। সিলেটের ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এর নিন্দা জানাই। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

যেভাবে পাশবিকতা :পুলিশ ও পাশবিকতার শিকার তরুণীর পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। শুক্রবার বিকেলে তিনি স্বামীর সঙ্গে নিজেদের গাড়িতে করে ঘুরতে বের হন। একপর্যায়ে তারা এমসি কলেজ এলাকায় বেড়াতে যান। সন্ধ্যার পর কলেজের প্রধান ফটকের সামনে স্বামী-স্ত্রী গাড়িটি রেখে একটি দোকান থেকে কেনাকাটা করেন। পরে গাড়িতে ফিরে সেখানেই বসে গল্প করছিলেন তারা। রাত ৮টার দিকে পাঁচ যুবক তাদের গাড়িটি ঘিরে ধরে স্বামী ও স্ত্রীকে জোর করে গাড়ি থেকে নামায়। তাদের মধ্য থেকে তিন যুবক তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকার ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের দিকে নিয়ে যায়। স্বামীকে গাড়ির মধ্যেই আটকে রাখে দুই যুবক। ঘণ্টাখানেক পর স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে গেলে তিনি ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে গিয়ে স্ত্রীকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান।

ওই ঘটনা সম্পর্কে একাধিক শিক্ষক ও পাশের আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন, এক ব্যক্তির চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ পাচ্ছিলেন। তখন তারা সেদিকে নজরদারি করলেও আতঙ্কে কেউ সামনে যাননি। একপর্যায়ে নারীর চিৎকার শুনে স্টাফ কোয়ার্টার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওই তরুণীর স্বামী পুলিশকে বলেছেন, ঘটনায় জড়িতদের দু`জনকে তিনি আগেও ওই এলাকায় দেখেছেন। কয়েকজন তার সামনে থেকে স্ত্রীকে টেনে ছাত্রাবাসের দিকে নিয়ে যায়। তিনি চিৎকার দিলেও কেউ শুনছিল না। পরে তাকে ছেড়ে যুবকরা চলে গেলে লোকজন জড়ো হয়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছুর রহমান জানান, ধর্ষণের শিকার তরুণী মানসিকভাবে আতঙ্কিত অবস্থায় আছেন। তবে তার শারীরিক কোনো ঝুঁকি আপাতত নেই। তার শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে একটি পরীক্ষা ঢাকায় করানো হতে পারে।

মামলায় আসামি যারা :শাহপরাণ থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম জানান, শুক্রবার গভীর রাতেই ঘটনার শিকার তরুণীর স্বামী শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। এতে ৯ জন আসামি হলেও এজাহারে ছয়জনের নাম দেওয়া হয়। তারা হলো- সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)। তাদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত। বাকিরা এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র।

মামলার এজাহারে আসামি সাইফুরের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে ও বর্তমান ঠিকানা এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো উল্লেখ করা হয়েছে। শাহ মাহবুবুর রহমানের বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনিপাড়া হলেও বর্তমানে সে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের ২০৫ নম্বর কক্ষ থাকে, মাহফুজুর রহমানের বাড়ি কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামে, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জগদল গ্রামে, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জের আটগ্রাম এবং তারেকের বাড়ি সুনামগঞ্জ শহরের নিসর্গ আবাসিক এলাকায়।

কলেজ সূত্র জানায়, সাইফুর, রনি ও মাহফুজুর ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী। অর্জুন সাবেক শিক্ষার্থী। রবিউল বহিরাগত। ছয়জনই ছাত্রলীগের কর্মী। এর মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুরের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের ছবি আছে। সিলেটের ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ধর্ষণ মামলার আসামি সবাই রণজিৎ সরকারের অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মী। এ ব্যাপারে জানতে রণজিৎ সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অবশ্য সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অচিরেই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে কলেজের ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করেছে।

ফেসবুকে সক্রিয় আসামিরা :পুলিশ কোনো আসামিকে খুঁজে না পেলেও এজাহারভুক্ত কয়েক আসামিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় দেখা গেছে। তাদের কয়েকজন আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছে। আসামি রবিউল ইসলাম `গণধর্ষণকারী সকল নরপশুদের গ্রেফতারের` দাবিও জানিয়েছে। গতকাল সকালে এ পোস্টের পর বিকেলে তাদের আইডি নিষ্ফ্ক্রিয় পাওয়া গেছে।

রবিউল তার আইডিতে `সম্মানিত সচেতন নাগরিকবৃন্দকে` উদ্দেশ করে লিখেছে, `আমি রবিউল হাসান। আমি এমসি কলেজের একজন শিক্ষার্থী। আপনারা অনেকেই চিনেন, আমি কেমন মানুষ, তা হয়তো অনেকেই জানেন। গতকাল (শুক্রবার) এমসি ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের সাথে কে বা কারা আমাকে জড়িয়ে অনেক অনলাইন নিউজ করিয়েছেন। আমি এমসি কলেজের ছাত্র, কিন্তু আই (আমি) হোস্টেলে কখনোই ছিলাম না, আমি বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ করছি, আমি এই নির্মম গণধর্ষণের সাথে জড়িত নই। আমাদের পরিবার আছে। যদি আমি এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িত থাকি, তা হলে প্রকাশ্যে আমাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, সত্য না জেনে আমাকে এবং আমার প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের নামে কোনো অপপ্রচার করবেন না। ছাত্রাবাসে গণধর্ষণকারী সকল নরপশুদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।`

অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান মাছুম ফেসবুকে লিখেছে, `এ রকম জঘন্য কাজের সাথে আমি জড়িত না। যদি জড়িত প্রমাণ পান, প্রকাশ্যে আমাকে মেরে ফেলবেন। একমাত্র আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে। আল্লাহ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাকে সুইসাইডের দিকে নিয়ে যাওয়ায় আপনাদের বিচার আল্লাহ করবেন।`

তিন সদস্যের কমিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের :এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছাত্রাবাসের দুই নিরাপত্তাকর্মী সবুজ আহমদ রুহান ও রাসেল উদ্দিনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবনকৃষ্ণ আচার্য ও জামাল উদ্দিন। তদন্ত কমিটির দুই সদস্য ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।

এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ বলেন, `এ ঘটনায় আমরা বিব্রত, লজ্জিত, মর্মাহত। প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই। এ ঘটনায় আমাদের সকলের দায় রয়েছে।` তিনি বলেন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া দু`জন হলেন রাসেল মিয়া ও সবুজ আহমদ। তারা দু`জনই চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। এ ছাড়া মামলার আসামি ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের সিট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

ক্ষোভ ও নিন্দা :এদিকে, এমসি কলেজে ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতি দিয়েছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সিলেটের রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা কোনোভাবে মেনে যায় না। ঐতিহ্যবাহী এ ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশের মতো সিলেটবাসী মর্মাহত। এর দায় শাসক দল কোনোভাবে এড়াতে পারে না।

বিবৃতিদাতারা হলেন- গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিলেট জেলা জাসদ সভাপতি লোকমান আহমদ, সিপিবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য, প্রবীণ আইনজীবী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম, সাম্যবাদী দলের জেলা সম্পাদক ধীরেন সিংহ, সিপিবি জেলা সভাপতি হাবিবুল ইসলাম খোকা, গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আইয়ুব আলী, আইনজীবী এমাদ উল্ল্যাহ, শহিদুল ইসলাম, সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের মহানগর সভাপতি জাকির আহমদ, বাসদের (মার্ক্সবাদী) আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, বাসদ সমন্বয়ক আবু জাফর, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, জাসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক কে এ কিবরিয়া ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, বাংলাদেশ জাসদের মহানগর সাধারণ সম্পাদক নাযাত কবির, গণতন্ত্রী পার্টি জেলা সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর রহমান চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ, বাসদ জেলা সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশীদ শোয়েব, বাসদ (মার্ক্সবাদী) পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক সুশান্ত সিনহা সুমন, বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পাল, যুব ইউনিয়ন সভাপতি খায়রুল হাছান, আইনজীবী রণেন রনি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের মহানগর সভাপতি সঞ্জয় কান্তি দাশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক সনজয় শর্মা, ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সাধারণ সম্পাদক নাবিল এইচ।

সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধর্ষকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে বলেন, পুণ্যভূমি সিলেটের এই পবিত্র মাটিকে যারা পৈশাচিক ও বর্বরোচিত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে অপবিত্র করেছে, তাদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

বিবৃতিতে সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বলেন, অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক, তারা যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে না পারে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট শাখার নেতারা। সংগঠনের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশু ও সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা বর্বরোচিত ও অমানবিক।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর