শনিবার ৩০ মে, ২০২০ ১৫:০৮ পিএম


করোনা প্রাদুর্ভাব পরবর্তী শিক্ষা ভাবনা

মো. সাইদুল হাসান সেলিম

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ২১ এপ্রিল ২০২০  

করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অচল হয়ে পড়েছে দেশের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা। পবিত্র রমজানের ছুটি সহ আগামী ৩০শে মে পর্যন্ত সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটানা আড়াই মাস বন্ধ। এত দীর্ঘ ছুটিতে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শ্রেণী পাঠদান, পরীক্ষা, ল্যাব ওয়ার্ক সহ সকল শিক্ষা কার্যক্রম সম্পুর্ন বন্ধ। মন্থর গতিতে চলতে থাকা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এসএসসির ফলাফল তৈরির কাজও খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত করোনার প্রাদুর্ভাব দেশের গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। নিয়মিত পাঠদান বন্ধ থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ করার কোন সুযোগ নেই। এসব কারণে পেছাতে হবে শিক্ষাবর্ষের সকল পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিলম্বিত হলে বিঘ্নিত হবে কলেজে ভর্তি এবং এইচএসসি পরীক্ষা কারনে পেছাতে হবে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি। এসব কারণে উচ্চ শিক্ষাস্তরে সেশন জট সৃষ্টি হবে এটা প্রায় নিশ্চিত।

ইতিমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে ডিজি মহোদয় সরকারি ব্যবস্থায় সংসদ টিভিতে কিছু বিষয়ে শ্রেনী পরিচালনার ব্যবস্থা করেছেন। এমনি একটি মহতি উদ্যোগ নেয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাসগুলো বাড়িতে দেখছে কিনা এবং বাড়ির কাজ অনুশীলন করছে কিনা তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। দেশের প্রান্তিক অভিভাবকরাও ততোটা সচেতন নন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশে একটি শিক্ষা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ছিল বহু পূর্বেই। দেশের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা বিভিন্ন সময়ে একটি শিক্ষা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠার দাবি তুললেও তাতে কর্ণপাত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশের দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের এধরনের শ্রেণি পাঠদান সম্পর্কে পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা নেই ফলে তারা আকর্ষণ বোধ করছে না।

অপরদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্ব সহ আমাদের অর্থনীতিতে এক ধরনের ভূমিকম্প ধেয়ে আসছে। তার প্রভাবে দারিদ্র্যতা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। আশংকা করছি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শিক্ষার ধারাবাহিকতা হারাতে হতে পারে। এখন থেকেই আমাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষায় কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি। করোনা পরবর্তী শিক্ষার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে কৌশলপত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এখনই।

এসব কারণে-
** করোনা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করতে হবে।
** শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটি গুলোর সমন্বয় করতে হবে।
** শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে হবে।
** পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং উচ্চ শিক্ষায় পরীক্ষার সময়সূচিতে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হবে। এমনকি বন্ধের দিনেও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।
** করোনা পরবর্তী সময়ে শ্রেণীর সময় কমিয়ে নূন্যতম ৮ বিষয়ে পাঠদান করা যেতে পারে।
** নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিক্ষকগণকে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এতে প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
** সপ্তাহে ছয় দিনই পূর্ণ কর্মঘন্টা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার প্রয়োজন হবে না।
** গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জোর দিয়ে বার্ষিক শিক্ষক রুটিনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হবে।

আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ একবছরের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের কৌশল অবলম্বন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তা ছাড়াও ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরি বন্যা ১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী গৃহীত পদক্ষেপ ও অভিজ্ঞতা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতদসত্ত্বেও সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশর শিক্ষাব্যাবস্থা - ইনশাআল্লাহ। সেই প্রত্যাশায় -

সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর