বুধবার ২৭ মে, ২০২০ ৮:১৭ এএম


করোনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয়

আনিসুর রহমান

প্রকাশিত: ০৯:৩৩, ২ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১২:২২, ২ এপ্রিল ২০২০

আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন আমাদের শিক্ষার্থী-অভিভাবকই নন, সারা বিশ্ব আতঙ্কগ্রস্থ অজানা এক ভাইরাস নিয়ে। আমরা ছোট বেলায় পড়েছিলাম সাধারণ বিজ্ঞান বইতে T2 dvh ভাইরাস। করোনাভাইরাস অবশ্য এখনো অজানা। করোনা ভাইরাস ৩৮০ বার তার জিনের গঠন বদলেছে। যায় হোক আমাদের শিক্ষার্থীরা এই সময় কী করতে পারে, আর অভিভাবকগণের করণীয়ই বা কী? এ বিষয়ে খুব ছোট্ট আলোচনা করব। আমরা খুব দূর্দিন পার করছি। রবিঠাকুরের ভাষায়, “মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসেহারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে।” এই দূর্যোগের অমানিশা আমরা শীঘ্রই কাটিয়ে উঠব। আমরা যে সময় পার করছি, এখানে প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের থাকতে হবে ঘরের মধ্যে। এই সময়টাই আমরা বিশেষ কিছু উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের সম্পদে পরিণত করতে পারি। এই সম্পদ দ্বারাই আগামীতে দেশ জাতি অন্যরকম উঁচুতে স্থান পেতে পারে।

করোনায় শিক্ষার্থীরা যা করতে পারে: আমরা আমাদের দৈনন্দিন রুটিন ঠিকঠাক পালন না করার জন্য অন্য বন্ধুদের থেকে বিভিন্নভাবে পিছিয়ে আছি। এই সময়টিই হতে পারে এই বিষয়ভিত্তিক দূর্বলতা কাটিয়ে উঠার সময়। আমাদের প্রথম কাজ হতে পারে, আমি কোন কোন বিষয়ে কোন কোন টপিকে দূর্বল আছি, তার একটি তালিকা তৈরি করা। শুরু করতে হবে এখান থেকেই। প্রিয় শিক্ষার্থী খেয়াল করো, এখন তোমার হাতে অনেক সময়। স্কুল নাই, নাই কোন টিচারের কাছে অতিরিক্ত সময় দেয়ার ঝামেলা। তুমি একটি তালিকা তৈরি করে পাঠ্যবই নিয়ে ডুবে যাও বইয়ের মধ্যে। অভ্যাসে পরিণত করো, পাঠ্য বইয়ের প্রতিটি লাইন পড়ার। বুঝে পড়ার চেষ্টা করো। যা বুঝলে তা খায় লিখে ফেলো। ভালো করার গোপন কৌশল হলো, পড়ার সাথেই তা লিখে রাখা। একটি বিষয় একবার লিখলে তা আর লিখতে হবে না, এমন নয়। বারবার লিখতে হবে। মজার বিষয় হলো, তুমি এই কাজটি তিনদিন করার পর দেখবে, নিজের কাছে অন্যরকম শান্তি অনুভব করছো।

এই বন্ধের পর যখন স্কুল বা কলেজে যাবে, তোমার বন্ধুরা তোমাকে একেবারেই অন্যরকম (যাকে সুপারম্যান বলে) ভাবে আবিষ্কার করবে। আরো কিছু কাজ তুমি একা একাই করতে পারো। তাহলো, পর্যায় সারণির প্রথম ৪০টি মৌলের নাম মুখস্থ করে রাখতে পারো। তুমি যে ক্লাসেই পড়ো না কেন- যে বিভাগেই (কলা, ব্যবসায় শিক্ষা, মাদ্রাসা, বিজ্ঞান)পড়ো না কেন, মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা- এটি তোমার চাকরির সময়ও লাগবে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বেগম রোকেয়া, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীম উদদীন, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, হাসান হাফিজুর রহমানের জীবনী মুখস্ত করে রাখতে পারো। স্কুল/কলেজ তো বটেই চাকরির পরীক্ষায়ও তুমিই এগিয়ে থাকবে। কে না চাই- নিজেকে এগিয়ে রাখতে? তোমরা কী মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের “আমি তপু” বইটি পড়েছ? না পড়ে থাকলে খুব ভুল করেছ। যারা পড়েছ, তারা নিশ্চয়ই বিজয়ের হাসি দিচ্ছো। সত্যিই তাই। তোমরা কী হুমায়ুন আহমেদ -এর প্রথম উপন্যাস “নন্দিত নরকে” পড়েছ? ক্লাস সেভেন বা তার আগেই অধ্যয়নরত প্রতিটি মেয়েরই এই বইটি পড়া দরকার। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, এই ছুটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, এটুআই-এর সহযোগিতায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তা হলো- ঘরে বসে বিখ্যাত শিক্ষকদের ক্লাস করার সুযোগ। সেখানে বাড়ির কাজও দেয়া থাকবে। তা স্কুল ছুটির পর শ্রেণি শিক্ষককে দেখাতে হবে। যা ২৮ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে সংসদ টিভিতে শুরু হয়েছে। তোমরা ইউটিউবে শিক্ষামূলক অনেক চ্যানেল পাবে। তোমরা কিশোর বাতায়নেও ক্লাস পাবে। কিশোর বাতায়ন ঠিকানা: konnect.edu.bd । টেলিভিশন ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষকদের পরিচালিত ইউটিউব চ্যানেল দেখতে পারো। শিক্ষকদের চ্যানেলে যে কোন প্রশ্ন করলে তাত্ক্ষণিক উত্তর পাবে। শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চ্যানেল Edu Port, এখানে বিজ্ঞান ও আইসিটি ক্লাস পাবে।

English With Rafia Ma’am, SohojPathshala, Abdussobahan চ্যানেলে ইংরেজি ক্লাস পাবে। History Edu চ্যানেলে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ক্লাস পাবে। sanjib barman এ বিজ্ঞান ক্লাস পাবে।

প্রভাষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ভেড়ামারা কলেজ, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর