বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:৩৮ পিএম


করোনার ক্ষতি পোষাতে সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সিলেবাস

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৭:৩৭, ৭ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০৭:৪২, ৭ আগস্ট ২০২০

করোনা মহামারিতে গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা সাড়ে পাঁচ মাস দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে ছুটি। ১২ মাস মেয়াদি শিক্ষাবর্ষের প্রায় অর্ধেক সময় এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আসছে `রিকভারি প্ল্যান-২০২০`। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের সিলেবাস ও কারিকুলাম নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কারিকুলাম শাখা, দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রথম থেকে নবম পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির সিলেবাস কমানো হবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন সংশ্নিষ্ট শ্রেণির নির্ধারিত দক্ষতা অর্জন করেই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারে, সে দিকটি মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যগুলো নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিলেবাস। আগামী সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে- সেটা ধরে নিয়ে এ পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ছুটি কমিয়ে দুই মাস টানা ক্লাস নিয়ে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান না খোলা গেলে আগামী বছরের অন্তত দুই মাস বর্তমান শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে যুক্ত করে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ শেষ করা হবে। সে ক্ষেত্রে স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে নেওয়া হবে। আর ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মেয়াদ হবে ১০ মাসের।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এসব পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। সংশ্নিষ্টরা জানান, এ বছর প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেডিসিসহ সব পরীক্ষাই বহাল থাকছে। সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষার্থীদের অন্তত টানা দুই মাস পাঠদান করিয়ে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে সময় কমিয়ে আনতে পরীক্ষার বিষয় কাটছাঁট এবং কিছু বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হতে পারে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সমকালকে বলেন, একাধিক বিকল্প চিন্তা আমাদের রয়েছে। সবকিছুই নির্ভর করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, তার ওপর। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছুটিতে থাকছে। যদি এ ছুটি করোনার কারণে আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা আগামী বছরের দু-এক মাস সময় নিয়ে এই শিক্ষাবর্ষ শেষ করার চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ কমলে এবং খোলার উপযোগী হলে তবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

জানা গেছে, করোনার কারণে দীর্ঘ ছুটির এই পরিস্থিতি বিবেচনায় গত মে মাসে এক বৈঠকে শিক্ষাবর্ষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল এনসিটিবি। দীর্ঘ ছুটিতে থাকা সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই প্রস্তাব করা হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক মৌলিক সক্ষমতা (কোর কম্পিটেন্ট) অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, পাঠ্যবইয়ের যেসব বিষয় না পড়লে শিক্ষার্থীরা পরের শ্রেণিতে গিয়ে ওই শ্রেণির পাঠ বুঝতে পারবে না- সেগুলো চিহ্নিত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করে লেখাপড়া করাতে হবে ছুটির পর। ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা নিতে হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, `বিশেষজ্ঞরা সিলেবাস না কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর মৌখিক প্রস্তাব করেছিলেন ওই বৈঠকে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষ করা হলে মার্চ থেকে ২০২১ সেশন যদি শুরু করা হয় এবং ছুটি কমানো হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কোনো ক্ষতি হবে না।`

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় :ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত `শিখন ফল` ও `দক্ষতা` অর্জন করানোর দিকটি লক্ষ্য রেখে সিলেবাস কমানোর জন্য পরিকল্পনা শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলাদা করে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও নেপকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন সমকালকে বলেন, পাঁচ মাসের টানা বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবুও অনেক শিক্ষার্থী এ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুনভাবে সবকিছু সাজানো হবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে সব ছুটি বাতিল করা হবে। দ্রুত শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করার একটা পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রেণিভিত্তিক মৌলিক সক্ষমতা অর্জনের বিষয় চিহ্নিত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করার জন্য নেপ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আকরাম আল হোসেন বলেন, বছরের শুরুতেই সারা বছরের পাঠপরিকল্পনা নির্ধারণ করা ছিল। সংশোধিত সিলেবাসে সেটাকেও রিভাইজ করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ জানান, শিক্ষাবর্ষ যেন কিছুতেই নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে নতুন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ছুটি শেষ হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। তবে ছুটি যদি সেপ্টেম্বরের পরও দীর্ঘ হয়, তাহলে শিক্ষাবর্ষ পরবর্তী বছরের দু-এক মাস লাগতে পারে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর পরের ক্লাসের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি হবে। দুটি স্তরে এটি করা হবে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য একভাবে। আর পঞ্চম শ্রেণির জন্য আলাদাভাবে করা হবে।
নেপ মহাপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, সেপ্টেম্বরে স্কুুল খুলবে, সেটি মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। পুরো বছরের সিলেবাস যেন দুই-তিন মাসের মধ্যে কাভার করা যায়, তা নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর