সোমবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২:৩২ এএম


কপাল খুলছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ১২ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৮:৫৫, ১২ মার্চ ২০১৮

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের কপাল খুলছে। এসব মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সমান মর্যাদা পাচ্ছেন। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিচালনাসংক্রান্ত খসড়া নীতিমালায় এ প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী নতুন মাদ্রাসা স্থাপন, শিক্ষক নিয়োগ ও মাদ্রাসা পরিচালনা সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের তৈরি করা খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এবিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) ও নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক রওনক মাহমুদবলেন, ‘নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খসড়ায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন,‘ শিক্ষক নিয়োগ, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মাদ্রাসা পরিচালনাসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নীতিমালায় প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠক করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।’

খসড়া নীতিমালায় ১৯টি দফা রয়েছে। দফাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মহানগর, পৌর ও শহর এলাকার মাদ্রাসায় কমপক্ষে ২০০ এবং মফস্বল এলাকা ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। প্রতিটি মাদ্রাসায় একজন প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক থাকবেন। প্রধান শিক্ষকের শিক্ষগত যোগ্যতা হবে ফাজিল (ডিগ্রি পাস) আর সহকারী শিক্ষকদের এইচএসসি পাস। চারজন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে একজন কারি নিয়োগ দিতে হবে। তার শিক্ষকতা যোগ্যতা হবে আলিম পাস। অফিস সহায়কের এসএসসি পাস হতে হবে। শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অনুমোদিত সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তক পাঠদান করতে হবে। সহশিক্ষা হিসেবে কেরাত, হামদ, নাত প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বৃক্ষরোপণ, কাব দল (স্কাউটিং), পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি শিক্ষক নিয়োগ দিবে। এই কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আর মেট্রোপলিটন এলাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। সদস্য সচিব হবেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। কমিটির অপর সদস্যরা হবেন-উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বা থানা সদরের এমপিওভুক্ত একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সভাপতি।

মাদ্রাসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপজেলা ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সভাপতি হবেন ইউএনও আর মেট্রোপলিটন এলাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সদস্য সচিব হবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটির অপর সদস্যরা হবেন-উপজেলা বা থানা সদরের এমপিওভুক্ত একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের একজন প্রতিনিধি।

নতুন মাদ্রাসা স্থাপনের ক্ষেত্রে নীতিমালায় বলা হয়েছে- একটি মাদ্রাসা হতে অপর মাদ্রাসার দূরত্ব শহর এলাকায় এক কিলোমিটার। মফস্বল এলাকায় দুই কিলোমিটার। প্রাথমিক স্কুলের মতো মফস্বল এলাকার মাদ্রাসার শূন্য দশমিক ৩৩ একর, পৌর এলাকায় শূন্য দশমিক ২০ একর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় শূন্য দশমিক ১০ একর জমি থাকতে হবে। মাদ্রাসার নামে রেজিস্ট্রি করা জমিতে অন্তত টিনের বেড়াসহ টিনশেড ভবন বা পাকাভবন থাকতে হবে। শিক্ষার্থী প্রতি এক বর্গমিটার হিসাবে শ্রেণিকক্ষের আয়তন থাকতে হবে। প্রধান শিক্ষকের অফিস, শিক্ষক মিলনায়তনসহ অন্তত পাঁচটি কক্ষ থাকতে হবে। মানসম্মত টয়লেট, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলে পর্যায়ক্রমে সংযোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ ও পাঠাগার থাকতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে- মাদ্রাসার স্থায়ী আমানত হিসেবে ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা থাকতে হবে। নতুন মাদ্রাসা স্থাপনের ক্ষেত্রে ‘মহান’ ব্যক্তির নামে নামকরণ করতে হলে সরকারি তহবিলে কোনো অর্থ জমা দিতে হবে না। তবে কোনো ব্যক্তির নামে করতে হলে মাদ্রাসার তহবিলে পাঁচ লাখ টাকা জমা রাখতে হবে।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর