শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ৮:৫৪ এএম


কঙ্কালের হাড় দিয়ে টানানো হলো মশারি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:০০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মশার হাত থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর প্রচলন রয়েছে দেশে-বিদেশে। কিন্তু তাই বলে কি মশারি টাঙাতে হবে কঙ্কালের হাড় দিয়ে! হ্যাঁ, যা দেখলে অনেকের গা ভয়ে কেঁপে উঠে সেই কঙ্কাল দিয়েই মশারি টাঙিয়ে রাত কাটালেন এক মেডিকেল শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর, বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র কৌসর শেখ। গত শনিবার রাতে মশারি টাঙানোর জন্য দড়ি না পেয়ে শেষমেশ কঙ্কালের হাড়ে মশারি বেঁধে রাত কাটিয়েছেন। পরিদিন বিকেলে এই সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টও করেন তিনি। ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, "যখন আপনি মশারি টাঙাতে বাধ্য কিন্তু হোস্টেলে দড়ি নেই। যার হাড় সে না জানি কী ভাবছে এসব দেখে।"

তবে এই বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আজ রবিবার দড়ি কিনে নিয়ে এসেছি। মজার জন্য গতকাল হাড় দিয়ে মশারি বেঁধেছিলাম। মজার জন্যই ফেসবুকে পোস্ট করেছি। তবে হোস্টেলে কোনও অব্যবস্থা নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই।"
এই বিষয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শুভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "নিছকই মজার জন্য এইভাবে হাড় দিয়ে মশারি বেঁধেছে। বিভিন্ন সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের মজা করি। কখনও তো নিজেরাই রোগী বা ডাক্তার সাজি।"

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ তথা এমএসভিপি উৎপল দাঁ বলেন, "এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বলতে পারবেন।"

বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল এ বিষয়ে হাসতে হাসতে বলেন, "মজার জন্য কে যে কখন কী করে বসে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই।"

যদিও, ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও`র মেডিকেল ফ্রন্টের স্থানীয় নেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, "অন্যান্য মেডিকেল কলেজের হোস্টেলগুলির মতো বর্ধমান মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেও বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থা রয়েছে। সময়মত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পড়ুয়াদের থাকতে হয়।"

তবে এই প্রসঙ্গে স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শুভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "বছর দেড়েক আগে হোস্টেলে যে ধরনের অব্যবস্থা ছিল, সেখান থেকে এখন উন্নতি হয়েছে। আগে হয়ত মাসে একদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হত। এখন প্রতি সপ্তাহে হয়। তিনি আরও বলেন, "লোকবলের অভাব অবশ্য রয়েছে। তবে বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ভবনে জানানো হয়েছে।" সূত্র: এনাদুইন্ডিয়া.কম

 

এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর