শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০২ পিএম


এসিটি শিক্ষকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২১, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ০০:২২, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অনিশ্চিত  ভবিষ্যত নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন এসিটি (এডিশনাল ক্লাস টিচার) শিক্ষকরা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ীকরণের কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। গত জানুয়ারি থেকে তারা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

প্রকল্পটির নাম সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট । দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গত ২০০৮ সালে শুরু হয় সেকায়েপ। পরে ওই প্রকল্পের আওতায় এসিটি (অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষক) কম্পোনেন্টের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০১৫ সালে তিন বছর মেয়াদে ৬৪টি জেলায় একটি করে উপজেলা মাধ্যমিক পর্যায়ের দুই হাজার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-মাদ্রাসা) ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত এসিটি নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে সৃষ্টি হয় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। অনেক মেধাবী বেকার যুবক জড়িয়ে পড়েন এ প্রকল্পে।

ঘটনা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার। এখানে (সেকায়েপ) ৮৮ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করতে এসে এখন নিজেরাই মুখোমুখি হয়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের।  আত্রাই উপজেলায় কর্মরত ছিলেন ৮৮ জন শিক্ষক। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। কর্মরত এসব শিক্ষকের আবার সরকারি চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন। 

উপজেলার ভবানীপুর জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত সেকায়েপ শিক্ষক অসিম কুমারের কথা হলো  সরকার চাকরির মেয়াদ না বাড়ালে পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষক বেকার হয়ে পড়বেন। ফলে সেকায়েপ শিক্ষকরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। উপজেলার আহসানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনৎ কুমার প্রামাণিক জানান, স্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষক দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় এগিয়ে গেছে। তাই কর্তৃপক্ষ এ সমস্যার সমাধান করলে একদিকে যেমন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে, অন্যদিকে দূর হবে শিক্ষকদের দৈন্যও।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর