সোমবার ২৫ মে, ২০২০ ১৯:৪৭ পিএম


এসইউ'র উদ্ভাবন:করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সেবা করবে রোবট

মুসতাক আহমদ

প্রকাশিত: ০৯:৪০, ৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৯:৪৩, ৬ এপ্রিল ২০২০

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সেবা করবে রোবট। রোগীর সমস্যা শুনে তা ডাক্তারের কাছে পাঠানো, সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, বাথরুমে নেয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজ করবে এই রোবট।

হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা-সহকারী হিসেবে ব্যবহারের জন্য এই রোবট তৈরি করেছে বেসরকারি সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল। রোবটটির নাম দেয়া হয়েছে ‘সেবক’। সরকার চাইলে এটি উৎপাদন করে হাসপাতালে সরবরাহ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রোবটটির নির্মাতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ডাক্তারদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। ঝুঁকি বিবেচনায় অনেকেই সেবা দিতে গিয়ে শঙ্কায় থাকেন।

তবে সেবক নামের এই রোবটের মাধ্যমে চিকিৎসক তার রুমে বসেই সেবা দিতে পারবেন রোগীকে। এমনকি তিনি যদি হাসপাতালের বাইরে থাকেন তাহলে তার পক্ষে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া সম্ভব হবে। এতে কমবে ডাক্তার ও নার্সের শঙ্কা ও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

এ রোবট তৈরি টিমের সদস্য, প্রভাষক মাহবুবুল হাসান বলেন, রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি হাসপাতালের সব পেশেন্টের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা চিকিৎসা সহকারী হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। আমাদের এ রোবটটি একটা ওয়ার্ডে ১০০ রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে।

চাহিদা অনুযায়ী সেবার ধরনের ওপর বিভিন্ন রকমের ফিচার এতে যুক্ত করা সম্ভব। জানা গেছে, ইউনিভার্সিটি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ৬ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটি রিসার্চ টিম এই সেবক নামের রোবটটি তৈরি করেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ইন্সটিটিউটের সদস্য। ইন্সটিটিউটে প্রায় ৫০ জন সদস্য আছেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প হিসেবে সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য রোবটটি তৈরি করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটির রিসার্চ টিমের দলনেতা ও শিক্ষক মাইনুল হাসান জানান, এ রোবট ব্যবহার করে একটি কন্ট্রোল স্টেশনে বসে রোগীর সংস্পর্শে না গিয়ে প্রত্যেককে সেবা দেয়া সম্ভব হবে। এতে ডাক্তার ও নার্স সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ডে একজন রোগী যখন ভর্তি হয়, তখন প্রথমে ডাক্তারকে দেখাতে হয়। ডাক্তার তাকে একটা প্রেসক্রিপশন দেন। প্রেসক্রিপশনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অনলাইন সফটওয়্যারে ইন্সটল হবে। অনলাইনে সফটওয়্যারে রোগীর তথ্য ও প্রেসক্রিপশন ইন্সটল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই রোগীর জন্য একটি মেডিকেল বক্স তৈরি হবে। এভাবে একটা ওয়ার্ডে ১০০ জন রোগী থাকলে ১০০টি বক্স তৈরি হবে। এই রোবটটি বক্স অনুযায়ী রোগীর সেবার রুটিন অনুসরণ করবে। যে সময় যে ওষুধ খাওয়ানো দরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ওষুধ নিয়ে সেবক নির্দিষ্ট রোগীর সামনে হাজির হবে।

সেবকের নির্মাতারা আরও বলেন, ওষুধ খাওয়ার সময় হলে নির্দিষ্ট রোগীর যে বক্স, সেটি ওপেন হবে এবং সেবক ওষুধ নিয়ে রোগীর সামনে যাবে। কোনো রোগী যদি ওষুধ খেতে অক্ষম হয় তাহলে এই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট রোবটটি স্বয়ংক্রিয় রোবটিক্স হ্যান্ডের মাধ্যমে ব্যক্তিকে ওষুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবে। সঙ্গে পানি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবে। যদি কোনো রোগী ট্যাবলেট জাতীয় মেডিসিন নিতে অক্ষম হয়, তাহলে এই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট রোবটটি সেই ট্যাবলেটটিকে পাউডার বানিয়ে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, এই রোবট তৈরিতে বিভিন্ন রকমের খরচ আছে। হাসপাতালে একটি ওয়ার্ডের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে চাইলে নানা ধরনের ফিচার যুক্ত করতে হবে। এতে একটি রোবট তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ ধরনের একটি রোবট বানাতে ৫ থেকে ৬ দিন লাগবে।

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এই রিসার্চ টিমে ৫০ জন সদস্য আছেন। সরকার চাইলে ও কাঁচামাল সহায়তা পেলে আমরা দেড় থেকে ২০০ রোবট তৈরি করে দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর