সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৪১ এএম


এমসি কলেজ: এই কলেজের সবকিছুই বিশাল

সরকার আবদুল মান্নান

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১০:১৯, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজে ৩১ দিন অধ্যাপনা করেছি। এ ছিল আমার জন্য বিরল এক সৌভাগ্যের বিষয়। শুধু অসাধারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয় বরং ক্যাম্পাসের ভিতরে যে প্রশান্তি বিরাজ করে, কয়েকদিন অবস্থান না করলে তা অনুভব করা সম্ভব নয়। এই কলেজের সবকিছুই বিশাল। প্রতিটি বিভাগ বাংলাদেশের অনেক কলেজের চেয়ে সবদিক থেকেই বড়। প্রতিটি ছাত্রাবাসের সামনে খেলার যে মাঠ ও পুকুর রয়েছে তার কোনো তুলনা চলে না। আর যেটাকে কলেজের মাঠ বলে তেমন একটি মাঠ বাংলাদেশের আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছে কি না আমার জানা নেই। অধ্যক্ষের দপ্তর এবং অধ্যক্ষের বাসভবন অসাধারণ সুন্দর। টিলার উপরে অবস্থিত এই দুটি স্থাপনার ভৌগোলিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। লাইব্রেরিটির স্থাপত্য সৌন্দর্য বিস্ময়কর। কিন্তু শতাব্দী পুরনো গ্রন্থগুলোর করুণ অবস্থা দেখে আমার রীতিমতো কান্না পেয়েছিল। প্রায় ১২৭ বছরের পুরনো এই কলেজটির কলাভবন অধ্যক্ষের দপ্তরের উলটো দিকে ছোট উচ্চতার টিলার উপরে অবস্থিত। শত বছরের পুরনো কাঠের সিঁড়ি এখনো অক্ষতই আছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো এই স্থাপনায় দুটি বিভাগ আছে। একটি গণিত ও অন্যটি পরিসংখ্যান। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই আপনার চোখে পড়বে বিশ্ববিখ্যাত গণিতজ্ঞ ও পরিসংখ্যানবিদদের ছবি ও অবদানের পরিচয়। প্রায় প্রতিটি বিভাগে আপনি এই একই দৃশ্য দেখতে পাবেন। আর পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কথা যদি বলেন তা হলে আমি বলব এমসি কলেজের কোনো তুলনা চলে না। বিশেষ করে যে সব বিভাগে আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার প্রতিটিই সুন্দর। ওয়াশ ব্লক বা টয়লেট এককথায় পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর। শিক্ষকদের পাণ্ডিত্য ও মানবিকতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ১৯১৯ সালের ৭ই নভেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুরারিচাঁদ কলেজ হোস্টেলে "আকাঙ্ক্ষা" শিরোনামে ভাষণ দিয়েছিলেন। রবীন্দ্র আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে "মুরারিচাঁদ কলেজ জার্নাল" নামে যে গবেষণা পত্রিকাটি এ মাসেই প্রকাশিত হয়েছে সেটির মান দেখলেই আমার মন্তব্যের সত্যতা পাবেন।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো কিছু নিয়েই যেন কোনো তাড়া নেই। সবাই কিছুটা আয়েসী ও মন্থর। এবং খুব ভালো রেজাল্ট নিয়ে হুড়োহুড়ি আছে বলেও আমার মনে হয়নি। কিন্তু খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কলেজটিতে। বলা যায় সিলেটের সংস্কৃতিচর্চার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে মুরারিচাঁদ কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

এই অসাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে আমাকে চলে আসতে হয়েছে। সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে আমি এখন কাজ করছি "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি"র কার্যালয়ে (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট)। এ আমার জন্য বিরল এক সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। এখন আমার প্রতিটি মুহূর্ত কাটে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পণ্ডিতজনদের গবেষণা পড়ে এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের সান্নিধ্যে থাকা গুণিজনদের সাহচর্যে। এক জীবনে এরচেয়ে সৌভাগ্যের আর কী হতে পারে ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর