বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ৬:১৮ এএম


এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এর শর্ত শিথিল ও অপপ্রয়োগ

মাসুদুল হাসান আরিফ

প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০১:২৫, ৮ নভেম্বর ২০১৯

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের নীতিমালায় ধারাবাহিকতা হলো-পাঠদানের অনুমোদন, স্বীকৃতি অতঃপর এমপিওভুক্তি। অনুমোদনের সময় এমপিও না করার শর্তে অনুমতি নিয়ে থাকলে সেইসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয় না-পরিচালিত হয় ট্রাস্টের মাধ্যমে।

দীর্ঘদিন যাবৎ এমপিও প্রক্রিয়াটি জটলায় পড়ে আছে। ২০০৪ সাল থেকে শুরু এ জটলার দ্বার খুলেছিল ২০১০ সালে। ২০১০ সালে কোনরূপ নীতিমালা ব্যতীত রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রায় ১৭০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন শিক্ষকদের আন্দোলন এবং বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারী করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নীতিমালা জারির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। কঠোর এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কমিটির সম্মানিত সদস্যরা বিপাকে পড়েন যোগ্য প্রতিষ্ঠান কম হওয়ার জন্যে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয় নীতিমালার পরিবর্তন/সংশোধন/শর্ত শিথিল এবং অপপ্রয়োগ।

 

নীতিমালা অনুযায়ী চারটি সূচকের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করার কথা, সূচক চারটি নিম্নরূপ-

 

এমপিও ভূক্তিকরণের সূচকসমূহ   

                          সূচকের বিবরণ                                         

একাডেমিক স্বীকৃতির তারিখ

প্রতি ২ বছরের জন্য ৫, ১০ বা তদুর্ধ বছর হলে ২৫ নম্বর

শিক্ষার্থীর সংখ্যা

কাম্য সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫, কাম্য সংখ্যার পরবর্তী প্রতি ১০% বৃদ্ধির জন্য ৫ নম্বর

পরীক্ষার্থীর সংখ্যা

কাম্য সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫, কাম্য সংখ্যার পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য ৫ নম্বর

পাসের হার

কাম্য হার অর্জনের ক্ষেত্রে ১৫, পরবর্তী প্রতি ১০% এর জন্য ৫ নম্বর

 

উল্লেখিত সূচক অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান ন্যুনতম একটি নম্বর পেয়েছে সেই প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তির যোগ্য বলে বিবেচিত অর্থাৎ তালিকাভূক্ত হয়েছে। তথ্য মতে, ন্যুনতম ষাট নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে যোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়েছে। সব শর্তপূরণকৃত ষাট নম্বর পাওয়া প্রতিষ্ঠান যখন কম তখন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হারের তিন বছরের গড় করা হয়েছে। শর্ত শিথিল/ সংশোধিত এ নীতিমালার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে অপপ্রয়োগ করা হয় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ২১ এবং ২২ ধারার। মানা হয়নি স্বীকৃতির শর্ত, মানা হয়নি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হারের শর্ত। ফেল করানো হয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে।

 

মন্ত্রণালয় ও ব্যানবেইজ কর্মকর্তাদের তথ্য মতে যেসব উপজেলায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি সেখানে ধারা-২২ প্রয়োগ করা হয়েছে। এমপিও ঘোষণার পর থেকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ডি.কে.জি.এস. ইউনাইটেড কলেজটি

 

 (EIIN-131941) এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান না পাওয়ার পর কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না কেন এমপিওভূক্তির তালিকায় নাম আসলো না। নীতিমালার সূচক অনুযায়ী ডি.কে.জি.এস. ইউনাইটেড কলেজের (EIIN-131941) অর্জিত নম্বর হল :

 

          সূচক অনুযায়ী ডিকেজিএস ইউনাইটেড কলেজের তথ্য                               

    প্রাপ্ত নম্বর    

আবেদনের সময় স্বীকৃতির বয়স ৭ বছর [১ম স্বীকৃতি ০১/০৭/২০১১]

১৪.০

আবেদনের সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০৩৯ জন [কাম্য সংখ্যা মফস্বল এলাকা বিধায় ১৫০ জন]

২৫.০

২০১৭ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭১ জন [কাম্য সংখ্যা মফস্বল এলাকা বিধায় ৪০ জন]

২৫.০

২০১৭ সালে পাসের হার ৭৫.৬৫% [ন্যুনতম পাসের হার ৭০%]

১৭.৫

সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর

৮১.৫

তিন বছরের পাসের হারের গড় করলে ডি.কে.জি.এস. ইউনাইটেড কলেজের (EIIN-131941) পাসের হার ৬৮.৯%। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকোপা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কলেজের (EIIN-135379) তিন বছরের পরীক্ষার্থী ও পাসের হারের চিত্র  নি¤œরূপ-

  পরীক্ষার বছর    

পরীক্ষার্থীর সংখ্যা  

পাসের শতকরা হার

   ২০১৫,১৭ সনের পাসের হারের গড়      

২০১৫

২৭

২৫.৯৩

৬৮.৪৭ ডি.কে.জি.এস ইউনাইটেড কলেজের (EIIN-131941) চেয়ে কম

২০১৬

৮৭

৯৫.৪০

২০১৭

 ৪৪

৮৪.০৯

 

 

এই প্রতিষ্ঠানটির তিন বছরের পাসের হারের গড় ৬৮.৪৭%, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বিশেষ ক্ষেত্রে হয়তো পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিশেষ ক্ষেত্র শুধুমাত্র সেই উপজেলাতে প্রয়োগ হয়েছে যেখানে কোন যোগ্য প্রতিষ্ঠানই নেই।

উল্লেখ্য যে, শৈলকুপা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার শিকদার কলেজ (EIIN 135379) এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাহলে কি ধরে নেয়া যায়- বিশেষ ক্ষেত্র শুধুমাত্র বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে কর্তা ব্যক্তিরা এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এর শর্ত শিথিল/সংশোধন করেছেন এবং অপপ্রয়োগ করেছেন। [ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়]

 

লেখক : সহ সভাপতি

স্বাধীনতা ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন

 

এডুকেশন বাংলা/ এসআই

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর