মঙ্গলবার ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০:২৪ এএম


এমপিও নীতিমালা নিবন্ধন সনদধারী ১-১২ তমের উপর কার্যকর হবে না

মো. হান্নান

প্রকাশিত: ০৯:২৪, ১৫ জুন ২০১৮  

১-১২ তম নিবন্ধন সনদধারী যখন নিবন্ধন পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করে তখন নিবন্ধন পরিক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী শিক্ষক( তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে উল্লেখ ছিল কোন স্বীকৃত বিশ্ব বিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস হতে হবে এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে অনুমোদিত কোন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার হতে ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ সনদ থাকতে হবে অথবা গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রিয়ামন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সেন্টার হতে ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ থাকতে হবে।

উক্ত ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ দিয়ে ১-১২ তম নিবন্ধনধারীদের অনেকেই সহকারী শিক্ষক(তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে নিবন্ধিত হয়েছে।

পরে যখন ০৬/০৬/২০১৬ সালের গনবিজ্ঞপ্তিতে NTRCA এই ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ধারা সহকারী শিক্ষক(তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ের সনদ বাতিল করে তখন ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ দ্বারা সহকারী শিক্ষক(তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে নিবন্ধিত শিক্ষকগণ মহামান্য হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করে এবং আদালতের নির্দেশে NTRCA তাদেরকে আবেদনের সুযোগ দেয়।

এরপর মহামান্য হাইকোর্ট তাদের সনদের বৈধতা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেন। তারপর NTRCA মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে যা এখনও চলমান আছে।

কিন্তু ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ দ্বারা সহকারী শিক্ষক(তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে সনদধারীদের রিট মামলার রায়ের আপিল নিষ্পত্তির আগেই পুনরায় তাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যোগ্যতার সনদকে বাতিল করে

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এ সহকারী শিক্ষক(তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে নিবন্ধনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী/সমমান।
অথবা
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রী।

যদি আপিল বিভাগ ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ দ্বারা সহকারী শিক্ষক( তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে সনদধারীদের দায়ের করা রিটের উচ্চ আদালতের রায় বহাল রাখে তবে তাদেরকেও NTRCA নিয়োগ দিতে বাধ্য হবে।

ফলে তাদের ক্ষেত্রে সদ্য জারী হওয়া নতুন নীতিমালার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি প্রযোগ করা যাবে না। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি ১৫ তম নিবন্ধন পরিক্ষা হতেই প্রয়োগ হবে।

আবার সদ্য জারী হওয়া নতুন নীতিমালার ৩৫ বছর নির্ধারণ বিষয়টিও ১-১২ তম নিবন্ধন সনদধারী রিটকারী এবং সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যাবে না।

কারণ ১-১২ তম নিবন্ধনধারীদের রিট মামলার রায়ে উচ্চ আদালত বলেই দিয়েছে সনদের মেয়াদ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং রিট পিটিশনারদের নাম ও অন্যান্য সম্ভাব্য আবেদনকারীদের সমন্বয়ে নিয়োগের উদ্দেশ্যে একটি সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করতে হবে।

তাই নীতিমালার ৩৫ বছরের বয়সের বিষয়টি রিট পিটিশনার ও অন্যান্য সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। এমনকি ১৩ তম নিবন্ধনধারীদের ও ১৪ তম নিবন্ধন পরিক্ষার্থীদের জন্যও প্রযোজ্য নয়।

নীতিমালার বয়স এবং সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা কার্যকর করা হবে ১৫ তম নিবন্ধন পরিক্ষা গ্রহণ হতে।

তাই পূর্ববর্তী সনদধারীদের নীতিমালার এই দুইটি ধারা যথা- বয়স ৩৫ বছর এবং সহকারী শিক্ষক( তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত ধারা নিয়ে আতংকিত হওয়ার দরকার নেই।


সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর