বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:০০ এএম


এমপিওভূক্তি:যদি ভুল তথ্য দেয়ায় এমনটা হয় তাহলে যাচাই করলেন কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১৪, ৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:১১, ৬ নভেম্বর ২০১৯

গত ২৩ অক্টোবর দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে আদেশ জারি করে। এই তালিকার বহু প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক ওঠে। 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারী দলের এমপি-মন্ত্রীদের দেয়া তালিকা থেকে এমপিওভুক্ত না করে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে, কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে সফটওয়্যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে সব শর্তপূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

নানা তথ্য আনার প্রেক্ষাপটে এমপিওর সঙ্গে জড়িত অদক্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মত দেন সাবেক শিক্ষাসচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পেলেও এমপিওভুক্তির নির্ভুল তালিকা করতে না পারার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। তালিকাভুক্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষতায় গড়পড়তা সমালোচনা শুনতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারকে।

তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেছেন, দেখলাম প্রায় অস্তিত্বহীন, যুদ্ধাপরাধী প্রতিষ্ঠিত, সরকারীকৃত প্রতিষ্ঠানও এমপিওর তালিকায়। শুধু তাই নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে পুরো তালিকা ওয়েবসাইটে দিতে পারেনি। সনাতন পদ্ধতিতে নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছে যা শুনে মন খারাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, ফেসবুকের ইনবক্সেও ডজন ডজন অনিয়মের তথ্য পেলাম। সংক্ষুব্ধরা সমালোচনা করছেন আওয়ামী লীগ সরকারের। অথচ এই ভুল তালিকার দায় মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তার। ভুলের জন্য সফটওয়্যারের দোহাই দেয়াকে হাস্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সফটওয়্যারে সঠিক ইনপুট দেয়ার যোগ্যতার ঘাটতি ছিল কর্মকর্তাদের।

তিনি আরও বলেন, দুই হাজার ৭৩০ প্রতিষ্ঠান বলা হলেও বাস্তবে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে মাত্র এক হাজার ৪২৮টি। এত কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের সঠিকতা যাচাইয়ের নানা মেকানিজম মন্ত্রণালয়ের রয়েছে। এমনকি তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর মানে, ঘোষণার একদিন বা দুদিন আগে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়ে ভুল শোধরানোর জন্য মতামত আহ্বান করা যেত, যেমনটা আমি সচিব থাকাকালে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন কাজে করেছিলাম। মন্ত্রণালয় যদি দাবি করে আবেদনকারীরা ভুল তথ্য দিয়েছে বা তথ্য গোপন করেছে তাই এমনটা হয়েছে, তাহলে তা আরও হাস্যকর যুক্তি। তাহলে প্রশ্ন আসবে, যদি ভুল তথ্য দেয়ার জন্য এমনটা হয় তাহলে যাচাই করলেন কী?

জানা গেছে, রাজধানীর মধ্য বাড্ডা ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত ‘ন্যাশনাল কলেজ, বাড্ডা’ এবার এমপিওভুক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কলেজটি ‘ন্যাশনাল এডুকেশন এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ পরিচালিত হচ্ছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করতে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনই নেয়া হয়নি।

ট্রাস্টের (নেট ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও মহাসচিব শহিদুল্লাহ বাদল অবিলম্বে কলেজের এমপিওভুক্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে নানা অভিযোগসহ চিঠি দিয়েছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান ও শহিদুল্লাহ বাদল। তারা এক অভিযোগপত্রে বলেছেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড হতে এডহক কমিটি এবং মন্ত্রণালয় হতে এমপিওভুক্তি করানোর জন্য ৬০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন মর্মে অধ্যক্ষ মহোদয় একটি সালিশি সভায় উত্থাপন করেন।
সূত্র: জনকন্ঠ

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর