বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ২১:৩৯ পিএম


এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৫% ইনক্রিমেন্ট এখনো বাস্তবায়ন হয়নি'

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ২৭ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৯, ২৭ মে ২০১৯

`দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। এ বৈষম্য দূর করা না হলে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশে শিক্ষাব্যবস্থার ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় এ খাতের অবদানই বেশি। তাহলে সুযোগ-সুবিধায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা পিছিয়ে থাকবেন কেন? এই বৈষম্য দূর করতে হবে।`

একটি জাতীয় পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি।

নজরুল ইসলাম রনি বলেন, দেশে প্রায় ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু তাদের বেতন-ভাতায় রয়েছে আকাশ-পাতাল বৈষম্য। ১৯৮০ সালে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রথম এমপিওভুক্ত হন। শুরুতে বেতন-ভাতা খুবই কম ছিল। সামান্য বেতন-ভাতা নিয়ে যুগ যুগ ধরে শিক্ষকরা পাঠদান করে আসছেন। ১০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ছিল প্রায় ৩৫ বছর, যা বর্তমানে ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০০ টাকা।

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সারাজীবনে একটিমাত্র টাইম স্কেল ছিল, যা ২০১৫ সালে ৮ম জাতীয় পে-স্কেল প্রদানের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৫% ইনক্রিমেন্ট পাবেন। কিন্তু দীর্ঘদিন তার বাস্তবায়ন হয়নি। বহু অপেক্ষা, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একাধিকবার স্মারকলিপি, অনুরোধপত্র দেওয়া হয়। এরপরও শিক্ষকদের ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা পাওয়া না গেলে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রথমে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করা হয়। পরে অনশনসহ মোট ১৯ দিন হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তীব্র শীতে অমানবিক কষ্ট সহ্য করে আন্দোলনে অংশ নেন। সেটি ছিল মূলত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন।

এই শিক্ষক নেতা বলেন, ৬টি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল `এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম`। তিনি এর মুখপাত্র। ১৯ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিধির মাধ্যমে ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা ঘরে ফিরে যান। তারপরেও দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বকেয়াসহ তা বাস্তবায়ন হয়।

শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম রনি বলেন, শিক্ষকদের চাকরির নিশ্চয়তা নেই। ম্যানেজিং কমিটির দৌরাত্ম্যে অস্থির থাকতে হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের। বেতনবৈষম্য রয়েছে। ঈদ বোনাস মাত্র ২৫%, বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা। শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করা দরকার। এসব দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে প্রধান সমস্যা হলো শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে ৬%-এর পরিবর্তে ১০% কর্তন। এটি নিয়ে শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধে এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ মাউশির ডিজিকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিজের পরামর্শ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সমস্যার সমাধানে সরকারিভাবে সিডমানি বাড়িয়ে শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধ করা যেতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নিয়ে এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বাস্তবায়ন ক্রমান্বয়ে করা যেতে পারে। এতে শিক্ষক অসন্তোষ বন্ধ হবে এবং শিক্ষার গুণগতমান বাড়বে।

নজরুল ইসলাম রনি বলেন, দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। স্কুলে শিফট ও শাখার অনুমোদন দিতে চায় না সরকার। শিক্ষক ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সঠিকভাবে শিক্ষক দিতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষদের কোনো স্বাধীনতা নেই। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বেতন কোড-৭, অথচ সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতন কোড-৬। এটি মারাত্মক বৈষম্য। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় সমস্যা বেতনবৈষম্য। এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সৌজন্যে: সমকাল

এডুুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর