শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৪৫ পিএম


এমপিওভুক্তি: ভোটের আগেই আশার আলো

শরিফুল করিম

প্রকাশিত: ০১:১৭, ১৫ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৭:১৩, ১৫ মার্চ ২০১৮

এমপিওভূক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে অনশন: ফাইল ছবি

এমপিওভূক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে অনশন: ফাইল ছবি

নির্বাচনের আগেই বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির চিন্তাভাবনা করছে সরকার। বুধবার এমনই ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, আগামী অর্থবছরে এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হতে পারে। 

বুধবার রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকের আলোচনায় এমপিওভুক্তির দাবিটা ছিল প্রচণ্ড। বিশেষ করে এটা নির্বাচনের বছর। এমপিওভুক্তি সর্বশেষ দেয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। তাই এবার দিতেই হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক স্কুলের সখ্যা ৩৫ হাজার। এর মধ্যে এমপিওভুক্তি আছে ২৬ হাজার স্কুলের। বাকি রয়েছে মাত্র ৯ হাজার। এখান থেকে এক হাজার স্কুলকে এমপিওভুক্তি দিতেই পারি। এর জন্য বরাদ্দ প্রয়োজন হবে চার হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোয়ালিটি সম্পন্ন প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না তাই প্রধান শিক্ষক নিয়োগও দেয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ‘আজকের আলোচনায় একটি অভিযোগ এসেছে প্রধান শিক্ষকের কোয়লিটি ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু এখন প্রধান শিক্ষক নাই। কোয়ালিটি সম্পন্ন লোক নেই তাই নিয়োগও হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, রাজধানী এবং বড় বড় শহরে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের নিজস্ব ফান্ড শতশত কোটি। এ টাকাগুলো তাদের নিকটই থাকে। এ টাকার ব্যবহার নেই। এ টাকাগুলো ব্যবহারের চিন্তা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কলেজ আছে যেখানে অনার্স-মাস্টার্স খোলা রয়েছে কিন্তু শিক্ষক-ছাত্র কিছুই নেই। এ থেকে উত্তরণের জন্য একটা উপদেশ এসেছে সেটা হচ্ছে প্রতিটি জেলায় একটি করে মডেল স্কুল স্থাপন করা। এ উপদেশটা ভালো ছিল। পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায়ও মডেল স্কুল স্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একটা অভিযোগ রয়েছে যে জমিরুদ্দিন সরকারের কৃপায় উত্তরবঙ্গে অনেক এলাকায় স্কুল আছে ছাত্র নেই। আমরা অনেকগুলো এ ধরনের স্কুল বন্ধও করেছি। এগুলো আরও বন্ধ করা দরকার। এগুলো খামাখা বানানো হয়েছে। এগুলোর কোনো জাস্টিফিকেশন নেই। এগুলো খুব জোরেসরে বন্ধ করবো 

তথ্যমতে, ২০১০ সালে সবশেষ এক হাজার ৬২৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে সরকার। এর আগে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম বন্ধ ছিল ছয় বছর। ২০১৩ সাল থেকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সময় শর্তজুড়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এমপিও সুবিধা দাবি করা যাবে না। ২০১১ সালে ১০০০ বিদ্যালয় ও মাদরাসা এমপিওভুক্তি করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা করা হয়নি। তবে ২০১০ সালে এমপিওভুক্তির তালিকা প্রকাশ করার সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

আরো পড়ুন: ঝুলে আছে ৭৫ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য

তবে এবার আশার আলো দেখছেন শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও এমপিওভুক্তির বিষয় ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। 

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অর্থমন্ত্রী অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী কাজ করছে।

তিনি বলেন, নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমস্ত শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিতে রাজি হয়েছে। সেই আলোকেই মন্ত্রণালয় এখন কাজ করছে। 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর