শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৭ পিএম


এমপিওভুক্তি নিয়ে দুটি কথা

মো. হুমায়ুন কবীর কিসলু

প্রকাশিত: ১০:৩০, ৯ নভেম্বর ২০১৯  

গত ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭৩০টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা করেন। তিনি আরো জানান যে,প্রতি বছর যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।

শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক মাননীয় মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ২০১৮ সালের ১২ জুনের নীতিমালায় অসঙ্গতি,ভুলত্রুটির কথা উল্লেখ করেন এবং শীঘ্রই নীতিমালাটি স্থগিত করে,শর্ত শিথিল করে,শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে,নীতিমালা সংশোধন করে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রতি বছর নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা করবেন।

ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড.বিনয় ভূষণ রায়কে নীতিমালা প্রণয়ন কমিটিতে সংযুক্তির কথা জানিয়ে দিয়েছেন এবং শীঘ্রই নীতিমালা সংশোধনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

যাই হোক,ইতোমধ্যে সদ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন মহল এবং সাবেক এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমপিওভূক্তির অস্বচ্ছতা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন তুলেছেন। সেখানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জড়িয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তিকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। যা পরবর্তী এমপিওভুক্তির ধারাবাহিকতা ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের সামিল ছাড়া আমার কাছে অন্য কিছু মনে হয় না। আমার প্রশ্ন হলো, আপনি ক্ষমতায় থাকাকালীন,কেন কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলোনা,কেন আপনি সেদিন অসহায় শিক্ষকদের কথাগুলো ভেবে দীর্ঘদিনের বদ্ধ এমপিওর দ্বার খুললেন না। দীর্ঘ নয় বছর পর আজ এমপিওর দরজা উম্মুচন হলো,সেখানে আপনি সরকারকে সাধুবাদ না জানিয়ে,কেন এমপিও নিয়ে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন?

তবে হ্যা,অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অসত্য তথ্য দিয়ে অন লাইনে আবেদন করেছে,আর সেটা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য তালিকায় ঢুকে পড়েছে। ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। যারা দোষী সাভ্যস্থ হবেন,তাদের বিরুদ্ধে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

তাছাড়া যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করেছেন,তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সরকার বাহাদুরকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

পরিশেষে,দীর্ঘ ১৫/২০ বছর পর যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও হলো তারা যেন,অহেতুক বিপদগ্রস্ত না হয় এবং পরবর্তী এমপিওভুক্তির কার্যক্রম যেন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয় এবং বাকী সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দ্রুত এমপিওভুক্ত হয়,সে ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী মহােদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক: অধ্যক্ষ, বরগুনা আইডিয়াল কলেজ, বরগুনা।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর