মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ১৫:৪৯ পিএম


এমপিওভুক্তি নিয়ে কি থাকছে বাজেটে? যা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:২২, ১১ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৯:০১, ১১ জুন ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বসবে। আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে।

নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি ও সরকারিকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ হিসাব আগেই চূড়ান্ত করেছে। ফলে শিক্ষা খাতে এ কাজগুলো সঠিকভাবে করার জন্য আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থসচিবকে একটি আধা সরকারি পত্র দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে সে সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত করতে প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই চলছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এটা এমনও হতে পারে যে ১০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগামী অর্থবছরে ৩৩ শতাংশ করে এমপিও দিলাম। আবার এমনটাও হতে পারে যে প্রথম বছরে ১০০টির মধ্যে ৩৩টিকে এমপিও দিলাম, পরবর্তী ২ বছরে অন্য গুলোকে দিলাম। এ দুটির যে কোনো একটি হতে পারে। এ নিয়ে বাজেটে ঘোষণা আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী বাজেটের জন্য যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়েছে তা থেকে বরাদ্দ কমবে না। মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি ও নিয়মিত কার্যক্রম বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দের যে অঙ্ক তৈরি করবে তাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে না। নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হবে। কোনো কারণে যদি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কমে, তাহলে নিঃসন্দেহে নিয়মিত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ঘাটতি পড়লে পরে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। অতীতেও পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সেটা পারসেন্টেজের হিসাবে না প্রতিষ্ঠান হিসাবে হবে সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। বরাদ্দের সঙ্গে এমপিওভুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার যখন এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেবে, তখন এ ব্যাপারে বরাদ্দের প্রশ্ন আসবে।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাজেটে কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর মধ্যে শিক্ষা খাতও রয়েছে।

আগামী বাজেটে অর্থ বরাদ্দের জন্য পাঠানো ডিও লেটারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী যে সব উপজেলায় একটি করে কলেজ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি স্কুলকে সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। এসব স্কুল ও কলেজকে পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

এছাড়া ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এসব খাতে অতিরিক্ত ও এককালীন বরাদ্দের প্রয়োজন। আগামী বাজেটে কোন খাতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার একটি হিসেব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয়, নতুনভাবে ৩৩২টি বিদ্যালয় সরকারিকরণের ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে টাকার প্রয়োজন হবে ২৪২ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার। এছাড়া ২৯৯টি কলেজ সরকারিকরণের কারণে এর পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

হিসাবে আরও দেখানো হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিসিআরসিএ) এমপিওভুক্ত পদে ১৯ হাজার ৯৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তাদের বেতন-ভাতার জন্য প্রয়োজন হবে ৪৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এছাড়া ২ হাজার ৮৭১ জন প্রভাষককে নিয়োগেরও সুপারিশ করেছে এনটিসিআরসিএ। তাদের নিয়োগ দেয়ার পর বেতন-ভাতা খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ৯৯ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

জানা গেছে, নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা বহু বছর ধরে আন্দোলনে আছেন। অনেকের চাকরির বয়সও শেষের দিকে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অঙ্গীকার পূরণে নির্দিষ্ট করে যে ‘দু-এক মাস’ সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

সূত্র আরও জানায়, ৬ হাজার ১৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করা হবে। এর অনুমোদন হলে পরিচালনা ব্যয় খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর