মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২০ ১৭:৫৯ পিএম


এমপিওভুক্তির জন্য কোন বরাদ্দ চায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ৩০ মার্চ ২০১৮  

আগামী বাজেটে এখনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কোন বরাদ্দ চায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমনকি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্যও সুনির্দিষ্ট কোনও প্রস্তাব নেই। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষক জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্য অর্থ চেয়েছিলাম, অর্থ মন্ত্রণালয় দেয়নি। এসব বরাদ্দসহ এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ ছাড় দিলে আমরা দিতে পারব। থোক বরাদ্দের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ দেওয়া সম্ভব। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জাতীয়করণের জন্য বাজেট চাওয়া হলেও তা দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া, জাতীয় পে-স্কেল ঘোষিত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্য বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য যে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, তাতে শিক্ষকদের এ প্রাপ্য নিশ্চিত করতে পারবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারপরও নতুন সরকারিকরণের জন্য বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ থেকে মোট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ২৩২ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এরমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩০ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য পাঁচ হাজার ৭৯৮ কোটি দুই লাখ টাকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য নির্ধারিত ব্যয়সীমা অনুযায়ী বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৪৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে পরিচালনা ব্যয় বাবদ চাওয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৩০ কোটি তিন লাখ টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় বাবদ চাওয়া হয়েছে সাত হাজার ৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে চার হাজার ৯৭১ কোটি ৬০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অতিরিক্ত বরাদ্দসহ এ বিভাগের মোট চাহিদা ৩০ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে চলমান ৬২ প্রকল্পের জন্য চাওয়া হয়েছে তিন হাজার ৯৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর পরিচালনা ব্যয় বাবদ চাওয়া হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। পরিচালনা ব্যয় বাবদ এই অর্থ চাওয়া হয়েছে নতুন সরকারি করা ৬২৬টি স্কুল ও কলেজের বেতনভাতাসহ আনুষঙ্গিক কাজে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত ব্যয়সীমার (সিলিং) মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও বরাদ্দ চাওয়া হয়নি এই প্রস্তাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই পরিস্থিতির জন্য মন্ত্রণালয় দায়ী নয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত যে ব্যয়সীমা দেওয়া হয়েছে, তাতে নতুন করে একযোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয়। সংশোধনী বাজেটে যদি অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়, তাহলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রাপ্য পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতাও দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তারা।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারিকরণের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এমন ৩২৯টি বিদ্যালয় ও ২৯৯টি কলেজের সরকারিকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এ অর্থবছরে কোনও বাজেট রাখা হয়নি। ২০১৭ সালের ৮ মে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ প্রস্তাব করেও পায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপরও নতুন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ৩২৭টি স্কুল ও ২৯৯টি কলেজ–(৬২৬টি প্রতিষ্ঠান) সরকারিকরণের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর