শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৮ পিএম


এমপিওভুক্তিতে অসত্য তথ্য দিয়েছে অন্তত ২৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৮:৪১, ২৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৩, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

নতুন এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান পাওয়া অন্তত ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অসত্য ও ভুল তথ্য দিয়েছে সরকারকে। এমপিওভুক্তি পেতে তারা অনলাইনে আবেদনের সময় সংশ্নিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির তারিখ, প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাসের হারের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে অসত্য লিখেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য বর্তমানে যাচাই-বাছাই করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠান; সব শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। যাচাই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা গেছে। যাচাই চলবে আরও এক মাস। এতে ভুল তথ্য সরবরাহ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে বলে আশংকা তাদের।

আরো পড়ুন:কলেজ ছাত্রের মোবাইল আসক্তিতে যেভাবে কেড়ে নিল প্রাণ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভুল তথ্য সরবরাহ করে এমপিওর তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে নতুন গেজেট জারি করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্নিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের দুই হাজার ৭৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন। ওইদিন বিকেলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপণ জারি করে।

প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে সারাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ তদবিরমুক্ত এমপিওভুক্তি হওয়ায় এবার অন্যান্যবারের চেয়ে বিতর্ক কম ছিল। তবে যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠার পর দেখা যায়, অসত্য তথ্য দিয়ে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনায়াসে এমপিওর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, `আবেদনগুলো নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে সম্পূর্ণ অটোমেটেড উপায়ে বাছাই করে এমপিওর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরঞ্জিত তথ্য ও সংখ্যা সরবরাহ করে তালিকায় স্থান পেয়ে থাকলে, আমরা অবশ্যই তাদের বাদ দেব। শাস্তিও দেব। এ জন্য এমপিওর তালিকাতেই শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাইয়ে টিকলে এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর কোড নম্বর দেওয়া হবে। কোড বরাদ্দের পর অর্থ ছাড় করা হবে।` সচিব বলেন, এমপিও চালু হওয়ার পরও যে কোনো পর্যায়ে অসত্য তথ্য প্রদানের বিষয়টি প্রমাণিত হলেই তাদের এমপিও বাতিল করা হবে।

জানা গেছে, মোট এমপিও পাওয়া ২৭৩০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসাগুলোর তথ্য যাচাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। আর সাধারণ স্কুল ও কলেজের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. মো. হারুনুর রশীদ সমকালকে বলেন, `আমরা যাচাই শুরু করেছি এক সপ্তাহ

হলো। আরও মাসখানেক লাগবে। যাচাইয়ে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানই ভুল তথ্য দিয়েছে।` তিনি জানান, ঢাকা বোর্ডের ৩৫টি কলেজ এমপিও পেয়েছে। এর বাইরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিদ্যালয় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান এমপিও পেয়েছে। কলেজগুলো তারা এবং বিদ্যালয়গুলো বিদ্যালয় শাখা যাচাই বাছাই করছে। অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যাচাই-বাছাইও ঢাকা বোর্ডেই হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধিরা এসে যাচাই কাজ করে দিয়ে যাবেন।

বাছাই কাজে জড়িত ঢাকা বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ পর্যন্ত তারা ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভুল তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন। এর মধ্যে বিদ্যালয়ই আছে ২১টি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করতে তিনি রাজি হননি। তিনি বলেন, `সব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার বোর্ডে সংরক্ষিত আছে। দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের পাসের হার অযাচিতভাবে বাড়িয়ে লিখেছে। কেউ কেউ স্বীকৃতির তারিখ ঘষামাজা করে পুরোনো তারিখ দেখানোর চেষ্টা করেছে।`

বাছাই কাজে জড়িত মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, `আমাদের অন্তত আরও ৩০ কর্মদিবস লাগবে বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে। শেষ হলেই বলা যাবে কত প্রতিষ্ঠান অসত্য তথ্য দিয়েছে।`

 

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর