রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:৩৯ পিএম


এমপিওভুক্তিতে অসঙ্গতি:সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী যা বললেন(ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০৯:২১, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, একটি গণমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে আবেদনকারী এবং বোর্ডের কারণে অর্ধশত অযোগ্যপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি দেয়া হয়েছে।  রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে এর দায় বোর্ড এবং আবেদনকারীর। মন্ত্রী বলেন, না এ দায় শুধু আবেদনকারী এবং বোর্ডের নয় এ দায় শিক্ষামন্ত্রণালয়েরও । আমরাও এ দায় নিতে চাই। মন্ত্রী বলেছেন `আমি সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করবো আপনাদের কাছে যদি কোনো অযোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে এমন সুস্পষ্ট তথ্য থাকে তাহলে আমাদের দিয়ে সহোযগিতা করেন যাতে আমরা এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারি।

ভাড়া বাড়িতে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ব্যপারে তিনি বলেছেন এসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির সময়ে নিজস্ব বাড়ি থাকতে হবে এমন কোনো শর্ত দেয়া হয়নি।কিন্তু তারা  এমপিওভুক্তির অন্যান্যসকল শর্তপূরণ করেছেন এজন্য তারা এমপিও পেয়েছেন।

নিম্ন মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান আবারও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবেই এমপিওভুক্ত হয়েছে এব্যাপারে মন্ত্রীর বলেন, ,আমার ধারণা আবেদনকারী  হয়তো মাধ্যমিক স্কুলের এমপিওভুক্তির আবেদন করতে চেয়েছিলো কিন্তু তারা ভুলক্রমে তথ্য অনলাইনে ইনপুট করার সময় নিম্নমাধ্যমিক অপসনই সিলেক্ট করেছেন। আর আমরা দেখেছি সেই স্কুল নিম্ন মাধ্যমিকের সব শর্ত পূরণ করেছে এজন্য তাদের নিম্ন মাধ্যমিকেই এমপিও দেয়া হয়েছে। 

এই জায়গাটায় আমরা আরো ভালো করতে পারতাম। এখানে পূর্বের এমপিওভুক্তির তালিকাটার সাথে যদি নতুন এমপিওভুক্তির তালিকাটা মিলিয়ে দেখতে পরাতাম তাহলে হয়তো এমনটা হতোনা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীর নামে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি বলতে চাই এই প্রতিষ্ঠানের নামগুলো খুব পরিচিত নয়। যেহেতু রিপোর্ট আসছে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নাম পরিবর্তনের উদ্যােগ নিতে বলবো।

সদ্য ঘোষিত ২৭৩০ প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির বিষয়ে নানা অসঙ্গতি এবং জনমনে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন দানা বাঁধায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রোববার (২৭ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় ব্যানবেইস সম্মেলন কক্ষে এমপিও নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী।

\

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই অনলাইনে তথ্য দিয়েছে। কিন্তু এমপিও তালিকা প্রকাশে দেখা গেছে, তথ্য যাচাই হয়নি। এ কারণে প্রায় অর্ধশত অযোগ্য অথবা প্রায় অস্তিত্বহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত হয়েছে। ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত, শিক্ষার্থী নেই, পাস নেই, স্কুল ঘর নেই এবং সরকারি হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানও এমপিও পেয়েছে। এতে বোঝা যায় তালিকা যাচাই-বাছাই কতটা উদাসীনভাবে হয়েছে।

নতুন এমপিওভুক্তির জন্য গত বছরের আগস্টে আবেদন করে নয় হাজার ৬১৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে দুই হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ অক্টোবর এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। এরমধ্যে ২০৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ বিবেচনায় এমপিও দেয়া হয়েছে। সেই হিসাবে সাত হাজার ১৫টি প্রতিষ্ঠানই অযোগ্য। তার মানে তথ্য যাচাইয়ের জন্য সময় পেয়েছে এক বছরেরও বেশি। যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাবেদ আহমেদ।

নীতিমালা অনুযায়ী চার শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো হলো- প্রতিষ্ঠানের বয়স বা স্বীকৃতির মেয়াদ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার। প্রতিটি পয়েন্টে ২৫ করে নম্বর থাকে। কাম্য শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং স্বীকৃতির বয়স পূরণ করলে শতভাগ নম্বর দেয়া হয়। সর্বনিম্ন ৭০ নম্বর পাওয়া প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে। এবার আবেদন করা প্রায় ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা ও শর্তপূরণ করতে না পারায় এমপিও পায়নি।

এডুকেশন বাংলা/ এসআই/একে/এজেড 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর