শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:২৬ পিএম


এমপিওভুক্তিকে আগামিতে প্রতিবন্ধকতা, তথা কাঁদানো জীবন

মোহাম্মদ আলী শামীম

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ৪ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০১:৩০, ৫ নভেম্বর ২০১৯

 


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি হচ্ছে এদেশের শিক্ষা বিস্তারের এক মহাপ্রাণ। সে প্রাণ ফিরে পায় একটি রাজনৈতিক সরকারের আন্তরিকতা এবং সঠিক পরিকল্পনা। উপকার হয় রাষ্ট্রের সেটির জন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করে সরকার।
২০০০ সাল পর্যন্ত এমপিও হতো দিন দিন অথবা মাসে মাসে।২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের ফলে দেশে চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে। পরিবর্তন হয় এমপিওর নীতি। জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠান এমপিওর নীতি গ্রহণ করলেও বাস্তবে ছিলোনা তার প্রতিফলন। এ সরকার পুরো শাসন আমলে ২০০৫ সালে মাত্র একবার সামান্য কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও করে। যার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ননএমপিও জঠিলতা তৈরি হয়। সেই সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ননএমপিও সমস্যা সমাধানে হচ্ছেনা।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ননএমপিও প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ মনে করেছিলো, চারদলীয় জোট সরকারের অপরিকল্পিতভাবে পেছনে ফেলে রাখা এমপিও নীতি আওয়ামীলীগ সরকার গ্রহণ করবে।২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির বন্ধ দরজা খুলে দিয়ে দেড় হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান এমপিও করেন।ননএমপিও কর্তৃপক্ষ মনে করেছিলো বঙ্গবন্ধুর কন্যা এমপিও নীতি প্রতি বছর গ্রহণ করবেন।নানান কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এমপিও থেকে বিমুখ করেছিলেন অনেকে। ২০১৪ সালে আবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর অনেক আলাপ আলোচনা এবং ননএমপিও শিক্ষকরা রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে এমপিওর জন্য আবেদন নেবার নির্দেশ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।

ননএমপিও শিক্ষকরা মনে করেছিলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তি করবেন এবং সফল হবেন।২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকার কারনে সেটি বাস্তাবায়ন সম্ভব হয়নি।তিনি নির্বাচনের আগে ননএমপিও শিক্ষক ফেডারেশনকে বলেছিলেন নির্বাচনের পর এমপিও বাস্তবায়ন করবেন।রাষ্ট্রীয় অন্যান্য কার্যের মধ্যে তিনি ২০১৮/২০১৯ অর্থ বাজেটে এমপিওর জন্য বরাদ্দ রাখেন।

বঙ্গবন্ধুর পর তিনি একমাত্র সরকার প্রধান যিনি একসাথে ২৭৩০ টি ননএমপিও নিম্ন মাধ্যমিক,মাধ্যমিক স্কুল,স্কুল এন্ড কলেজ,একাদশ কলেজ,স্নাতক কলেজ, বিএম স্কুল, কলেজ, কৃষি কলেজ,দাখিল,আলিম,ফাযিল ও কামিল মাদরাসা এমপিওভুক্তি করেছেন।বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য স্বরণীয় হয়ে থাকবেন।
অতীতের ইতিহাস তথা ব্রিটিশ আমল,পাকিস্তানি আমল কয়টি প্রতিষ্ঠান ছিলো সেই ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সেসব আমলনামা প্রমাণ পাওয়া যাবে।

আমার আলোচনার মূল বিষয় হলো ২০১৯ সালের এমপিও ঘোষণার বিতর্ক। কিছু কিছু অনলাইন মিডিয়া এবং কুচক্রী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের এমপিওর এই বিশাল সফলতাকে, মেনে নিতে না পারায় এমপিওকে বিতর্কিত করতে চাইছেন।যদি বিতর্ক চলমান থাকে তাহলে রাষ্ট্র প্রধান এমপিও নীতির নেগেটিভ মনোভাব পোষণ করবেন।আর এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশে শিক্ষা আলো পৌছানোর জন্য নিবেদিত উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক সমাজ।বৃথা যাবে এবং বঞ্চিত হবে তাদের পরিশ্রম থাকবে না কোন পারিশ্রমিক মূল্য।

প্রতিষ্ঠান এমপিও হবার ফলে চা বিক্রেতার প্রতিষ্টিত প্রতিষ্ঠান এমপিও হবার কারনে তিনি আনন্দিত। এই আনন্দের দাবিদার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সিনিয়ন সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং এমপিওর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমদসহ আরো অনেকেই।

একটি সঠিক প্রতিষ্ঠান ভুল তথ্য দেবার কারনে এমপিও থেকে বঞ্চিত হলে সে দায় সরকারের নয়, সে দায় প্রতিষ্ঠানের। কোন প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে ভুল তথ্যের কারনে এমপিও পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভর। সেটি যাচাই - বাছাইয়ে সংশোধন হতে পারে।এর জন্য সরকার কিংবা এমপিওর দায়িত্ব কর্মকর্তার অগঠনমূলক সমালোচনা কতটুকু যৌক্তিকতা রয়েছে সেটি বিবেকবান লোক সহজে বুঝতে সক্ষম হবেন।নানান কারনে কিছু ভুলকে ব্যাপক হারে প্রচার করা হলে সে বিষয়টি পরবর্তীতে অক্ষমতা/ প্রদান করতে বাধাগ্রস্ত হয়।

এমপিওতে জেনারেল শাখায় কিছু ত্রুটি রয়েছে,সেগুলো হয়তো প্রতিষ্ঠানের ভুল তথ্যের কারনে হতে পারে। ভুলত্রুটিগুলো যাচাই বাচাইয়ে সংশোধন হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ত্রুটি ধরা পড়েছে বিএম শাখায়।এমপিওতে জেনারেল, বিএম এবং মাদরাসা শাখার পৃথক কর্মকর্তারা রয়েছেন।তাই বিএম শাখার ত্রুটির জন্য জেনারেল শাখার কর্মকর্তা কেন ত্রুটির জন্য বিতর্কিত হবেন?? সে বিষয়টি বুঝতে হবে সবাইকে।

আমি একজন ননএমপি শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি এবং সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনে করি,জেনারেল শাখার কিছু ত্রুটির কারনে দায়িত্ব প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমদকে বিতর্কিত করার সুযোগ নেই।ভুল তথ্যের কারনে যদি কোন প্রতিষ্ঠান এমপিও হয় তাহলে যাচাইয়ে সেটি সংশোধন করা/ বাতিল করা যাবে।বিএম শাখায় ভুল বেশি হয়েছে,সেগুলো অধিক যাচাই বাচাই করা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধুর কন্যার উন্নয়নকে যারা ইতিবাচকভাবে দেখতে চায়না, জামাত এবং তাদের দোসর/ মিত্র পন্হি কিছু মিডিয়া এমপিওর এই মহা উন্নয়নকে বিতর্কিত করার জন্য নানান অপপ্রচার করছে এমপিও কাজের কর্তাদের উপর।

এই এমপিওর ঘোষণা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছেছে, প্রত্যেক মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং এমপিও কাজের কর্মকর্তাদের উপর সন্তুষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওর এই কার্যক্রম আগামিতে চলমান রাখবেন এই আশা দেশবাসির।শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরো সততা এবং মনযোগী হয়ে এমপিও কাজকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দাবী রাখি।
ননএমপিওদের মনে রাখতে হবে এই সর্ব প্রথম বৃহৎ এমপিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।এটিকে বিতর্কিত করা, সহজ সমালোচনা নয় বরং আগামি এমপিও প্রাপ্যতাকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।ননএমপিও শিক্ষক সমাজের মূল কথা হলো পরিশ্রমকে অর্থবহ এবং মূল্য দেয়া আর যেটি বঙ্গবন্ধুর কন্যা দিয়েছেন এবং আগামীতে আরো দিবেন, দেবার জন্য উৎসাহ দিতে হবে। এই কর্মকর্তা আগামিতে আরো ভাল করে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এর জন্য তাঁকে উৎসাহ এবং সতর্ক করা হবে আমাদের যুগোপযোগী কাজ।বিনা পারিশ্রমিকে কতো শ্রম দিবেন? মনে রাখবেন ক্ষুদ্র কারনে বৃহৎ স্বার্থ বিনষ্ট করা বিবেকবানদের কাজ নয়।

লেখক : সভাপতি,ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন

মৌলভীবাজার জেলা শাখা ও সাংগঠনিক সম্পাদক,সিলেট বিভাগ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর