মঙ্গলবার ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০:০০ এএম


প্রশ্নফাঁস রোধে এইচএসসি পরীক্ষায় একগুচ্ছ পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৫, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ০৭:৫২, ১ মার্চ ২০১৮

আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার মত এইচএসসিতেও যেন প্রশ্নফাঁসের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য কিছু পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাড়তি সেট রাখা, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা শতাধিক কেন্দ্র বাতিল করা, ডাবল প্যাকেটে প্রশ্ন বিতরণ এবং ট্রেজারিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক রাখা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

নতুন করে এসব ব্যবস্থা নিতে পারলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব হবে মনে করছেন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে সুনির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রও চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলোর বিরুদ্ধে পরীক্ষার শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রশ্ন বাইরে চলে আসার অভিযোগ রয়েছে। তাই এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বর্তমান সংখ্যা থেকে শতাধিক কেন্দ্র কমানো হবে।

এছাড়া প্রশ্ন বিতরণ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। এবার শ্রেণিকক্ষ অনুযায়ী প্রশ্নের প্যাকেট করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে সেটা এবার থেকে সম্ভব না হলেও সিলগালা প্যাকেটের ওপর আরেকটি প্যাকেট রাখা হবে। অর্থাৎ প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় ডাবল প্যাকেট করা থাকলে সহজেই কেউ প্যাকেট খুলতে পারবে না।

আগামী এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে কী কী করণীয় সেসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করবে মন্ত্রণালয়। এবারে শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি কলেজকে চিঠি দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সূচিতেও এরই মধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এত দিন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার আগে এক থেকে দুই দিন ছুটি রাখা হলেও এবার তা থাকছে না। শুধু ইংরেজি দুই পত্রের প্রতিটির আগে এক দিন করে ছুটি রাখা হয়েছে। আর পরীক্ষার এই সময়সূচি নিয়ে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও এর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত সময়ে পরীক্ষা শেষ করতে চায়। এতে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার মতোই এইচএসসিতেও ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হবে। আর কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হবে।

এরই মধ্যে গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী মিলে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছেন। শিগগিরই এই তিন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরেকটি বৈঠক করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই তিন মন্ত্রণালয় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কাজ করবে।

গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা থেকেই বেশ কিছু পরিবর্তনের আভাস দেন। তিনি বলেন, ‘আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আমরা আরো কঠোর হব। এতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন না হলেও পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আর আগামী বছর থেকে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। তবে সব কিছুই হবে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় একগুচ্ছ পরিবর্তন আনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেকোনো উপায়ে এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চাই। এ জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক সকল কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর