সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯ ১৪:৩৩ পিএম


এত সতর্কতার পরও কিভাবে হচ্ছে প্রশ্নফাঁস?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১৭, ২৬ মে ২০১৯   আপডেট: ০৮:৫৮, ২৬ মে ২০১৯

এবার প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে চার ধাপে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা থাকার পরও কিভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হল, তা এক বড় প্রশ্ন বটে।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে কেন্দ্রে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণে মন্ত্রণালয়ের ১৪ সদস্যের কমিটি কাজ করছে।

এবার একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করা হলেও বিন্যাস পরিবর্তন করে সেটা করা হয়েছে আটটি। ওই প্রশ্ন এনক্রিপ্ট ফরম্যাটে দুই ভাগে- একটি ডিসি এবং অন্যটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। পরে দু’জন একত্রিত হয়ে বিশেষ পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে ডাউনলোড করে বৃহস্পতিবার রাতে প্রশ্ন ছাপানো হয়। এই সাবধানতামূলক ব্যবস্থার পরও সাতক্ষীরায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে একটি চক্র ফাঁস করেছে এই প্রশ্ন।

এতে সাতক্ষীরার স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া গেছে। শুক্রবার পরীক্ষার আগে সাতক্ষীরার একটি কোচিং সেন্টার থেকে প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ার সময় পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় চক্রের সদস্যসহ মোট ২৯ জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১ জনকে ২ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস দেশে এক নিয়মিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। সরকারের বিশেষ নজরদারির সুবাদে পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ হয়েছে বটে, তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রগুলো যে নিঃশেষ হয়ে যায়নি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া তারই প্রমাণ। বোঝাই যাচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধকল্পে যত সতর্কতাই অবলম্বন করা হোক না কেন, কোনো না কোনো ফাঁক গলে প্রশ্ন বাইরে বেরিয়ে আসছেই।

অর্থাৎ অপরাধীরাও নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরবর্তী ধাপের পরীক্ষাগুলোরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাবে। পরীক্ষাগুলোর তত্ত্বাবধান করছেন যিনি- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব- তিনি বলেছেন, একটি বড় কমিটি প্রশ্ন তৈরির কাজ করছে।

তাদের মধ্যে আটজন মিলে যদি পাঁচটি করে প্রশ্ন মুখস্থ করেন, তাহলেও ৪০টি প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সুযোগ থাকে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে কি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার কোনো সুযোগই নেই? আমরা মনে করি, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে একটি শতভাগ নিখুঁত পদ্ধতি বের করা প্রয়োজন। তা না হলে প্রশ্ন ফাঁসের বর্তমান ধারা চলতেই থাকবে। সাতক্ষীরায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করা দরকার। তাদের শনাক্ত করেই ক্ষান্ত হলে চলবে না, বিচারের আওতায়ও আনতে হবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর