শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:৪৮ পিএম


এক নজরে গাম্বিয়া-মিয়ানমার গণহত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৭, ২৩ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ঘোষণা করবেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)। রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মাধ্যমে মিয়ানমার গণহত্যা প্রতিরোধ ও শান্তি কনভেনশন ভঙ্গ করেছে বলে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করে গাম্বিয়া। প্রায় ৫০ পাতার ওই আবেদনে রোহিঙ্গারা রাখাইনে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে এবং এর ফলে গণহত্যার মতো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে এই বিষয়টি উল্লেখ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে গাম্বিয়া। যেহেতু এ ধরনের মামলা অনেকদিন ধরে চলে সে জন্য ওই একই আবেদনে পাচঁটি বিষয়ে কোর্টের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চায় গাম্বিয়া। যে বিষয়গুলোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে গণহত্যা বন্ধের জন্য মিয়ানমার অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে; মিলিটারি, প্যারামিলিটারি ও বেসামরিক অস্ত্রধারী ব্যক্তি কোনও ধরনের গণহত্যা না চালাতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া; মিয়ানমার গণহত্যা সংক্রান্ত কোনও ধরনের প্রমাণ নষ্ট করবে না; এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও খারাপ করে এমন কোনও কাজ করবে না। পঞ্চম বিষয়টি হচ্ছে আদেশের পরে আগামী ৪ মাসের মধ্যে উভয়পক্ষ তাদের নেওয়া পদক্ষেপ কোর্টকে অবহিত করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের শুনানি

এ বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বরের ১০-১২ তারিখ শুনানি হয়। উভয়পক্ষ শুনানিতে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ওই শুনানিতে রাখাইনে গণহত্যা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ উপস্থাপন করে গাম্বিয়া। গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবু বকর তাম্বাদু তার যুক্তিতে বলেন, ‘গণহত্যা হঠাৎ করে ঘটে না এবং রোহিঙ্গাদের উপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।’ গাম্বিয়া তাদের প্রায় পুরো যুক্তিতর্কে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃত করে বলেছে, মিয়ানমার অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা এ ধরনের অপরাধের বিচার করার মতো সক্ষমতা রাখে না।

বিপরীতে মিয়ানমারে কৌশল ছিল ভিন্ন। গণহত্যা হয়নি এ বিষয়টি তারা তাদের যুক্তিতর্কে উপস্থাপন করেনি। তাদের দাবি ছিল মামলাটি ভুল পদ্ধতিগতভাবে করা হয়েছে। এ মামলার বিচার করার অধিকার কোর্টের নেই বলেও মতামত তুলে ধরে তারা। মিয়ানমারের আইনজীবীরা শুনানিতে বলার চেষ্টা করেন গাম্বিয়ার এই মামলা করার কোনও অধিকার নাই।

এই মামলায় গাম্বিয়াকে ফলি হগ নামের যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান সহায়তা করছে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পল রাইখলার এই মামলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। এছাড়া ফিলিপ স্যান্ড, পায়াম আখাভান, পিয়েওে আজেঁ, অ্যান্ড্র লুয়েনস্টেইন, আরসালান সুলেমানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা এই মামলায় গাম্বিয়ার পক্ষে লড়ছেন। গাম্বিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবি পল রাইখলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সুমদ্রসীমানা বিরোধ সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের আইনজীবী ছিলেন।

অন্যদিকে মিয়ানমারের পক্ষে উইলিয়াম শাবাস, ক্রিস্টোফার স্টাকার, ফিবি ওকোয়া, আন্দ্রে জিমারম্যান, ক্যাথেরিন ডবসনসহ অন্যানরা আইনজীবী হিসাবে কাজ করছেন। এর মধ্যে মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উইলিয়াম শাবাস ২০১৩ সালে আল জাজিরায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন রাখাইনে নিঃশব্দ গণহত্যা হচ্ছে। অথচ ২০২০ সালে তিনি এই গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

মূল মামলা

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পরে মূল মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। উভয়পক্ষকে লিখিত মেমোরিয়াল জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোর্ট এক বছর সময় দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রেও সেটি অনুসরণ করা হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উভয়পক্ষের জন্য এই লিখিত মোমোরিয়াল হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ এর উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যত শুনানির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে। লিখিত মেমোরিয়াল জমা দেওয়ার পরে শুনানির জন্য কোর্ট দিন ধার্য করবেন এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। এ ধরনের শুনানি কতগুলো হবে তা নির্ভর করবে কোর্টের উপর। এ ধরনের শুনানিতে কোর্ট চাইলে বা কোনও পক্ষের অনুরোধে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত সরাসরি বা লিখিত আকারে উপস্থাপন করতে পারবে।

বিচারক

১৭ বিচারক এই মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫জন আন্তর্জাতিক বিচারিক আদলাতের নিজস্ব বিচারক। একজন করে বিচারক মনোনীত করেছে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার। বিচারকদের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সোমালিয়ার নাগরিক আব্দুলকায়ি আহমেদ ইউসুফ। ভাইস-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন চীনের শু হানচিন।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর