বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২০ ১২:২০ পিএম


একাদশে ভর্তিও আটকে গেছে

শরীফুল আলম সুমন

প্রকাশিত: ১৪:১৬, ১৪ জুন ২০২০  

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়েছে গত ৩১ মে। ফল প্রকাশের প্রায় ১৫ দিন হতে চললেও এখনো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সহসাই শুরু হচ্ছে না ভর্তি কার্যক্রম। এইচএসসি পরীক্ষার মতো একাদশে ভর্তি কার্যক্রমও আটকে গেছে তাই। কবে নাগাদ ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে তা বলতে পারছে না আন্ত শিক্ষা বোর্ডও। এ পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছে এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণরা।

জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই একাদশে ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। সেখানে ৭ জুন থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে গত ২৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে কভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক সুবিধাজনক সময়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে অনুরোধ করা হয়। এরপর দিন দিন করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। ফলে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত একাদশে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

আন্ত শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক  বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একাদশে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রশ্নই ওঠে না। সবার আগে আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্য করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই একাদশে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১৫ দিন পর এই পরীক্ষা শুরু হবে। অন্যদিকে এসএসসি উত্তীর্ণরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিবছর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এক ব্যাচ যখন এইচএসসি পরীক্ষা দেয় তখন নতুন ব্যাচ একাদশে ভর্তি হয়। কিন্তু এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও জটের সৃষ্টি হলো।

গত ২ জুন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক নির্দেশে চার্চ পরিচালিত রাজধানীর চার কলেজকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশ দেয়। কলেজগুলোও জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু ৩ জুন অন্য একটি নির্দেশে সেই চার কলেজের ভর্তিপ্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। সূত্র মতে, অনলাইনে কলেজে ভর্তি আবেদন গ্রহণ করা হলেও শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের দোকানে যাবে, কলেজে যাবে। আবার মোবাইলে টাকা জমা দিতেও দোকানে যেতে হবে। কারণ সব শিক্ষার্থীর পক্ষে বাসায় বসে অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব নয়। আবার নানা ভুলভ্রান্তির কারণে বোর্ডেও আসতে হয়। ফলে এই মুহূর্তে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। এ জন্যই এই মুহূর্তে ভর্তিপ্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে আন্ত শিক্ষা বোর্ড।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। যারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। জিপিএ ৫ পেয়েও অনেকে প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে না। অনেকে একাধিকবার আবেদন করেও পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, ভালো কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ৭৫টি, রংপুর বিভাগে ৩২টি, বরিশাল বিভাগে ১৪টি, রাজশাহী বিভাগে সাতটি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯টি, খুলনা বিভাগে ১৩টি এবং সিলেট বিভাগে ২৩টি। এসব কলেজে আসনসংখ্যা লক্ষাধিক। আর রাজধানীতে ভালো মানের কলেজ রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫টি, তাতে আসনসংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজার। ফলে জিপিএ ৫ পেয়েও সব শিক্ষার্থীর পক্ষে মানসম্মত কলেজে ভর্তির সুযোগ নেই। তবে দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি উপযোগী কলেজের সংখ্যা চার হাজার ৬০০-র বেশি। যেখানে আসনসংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। ফলে আসনের কোনো সংকট নেই। যেহেতু সব শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হয় না। তাই এবারও সাত লাখের কাছাকাছি আসন খালি থাকবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর