বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:০১ পিএম


একদিনও পাঠদান না করে এমপিও! স্ত্রী অধ্যক্ষ,স্বামী সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ২৮ অক্টোবর ২০১৯  

রংপুরের মিঠাপুকুরে ডা. এমআর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয় ২০১১ সালে। শ্রেণিকক্ষে নেই বেঞ্চ ও চেয়ার। একদিনও পাঠদান হয়নি কলেজটিতে। শুধুমাত্র কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করে রাখা হয়েছে প্রায় ৫ বছর আগে। কলেজটির অধ্যক্ষ ফারহানা আক্তার মুক্তি এবং গভর্নিং বডির সভাপতি মোকছেদুর রহমান আরিফ। তারা দু’জনেই স্বামী-স্ত্রী।

এছাড়া, ২০ মিটার দূরে রয়েছে গোপালপুর বিএম কলেজ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। ওই কলেজের অধ্যক্ষও মোকছেদুর রহমান আরিফ। এই দু’টি কলেজের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। কাগজ-কলমে দু’টি প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও বাস্তবে শিক্ষার্থী রয়েছে গোপালপুর বিএম কলেজে। এই শিক্ষার্থী দিয়ে ডা. এমআর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি চালু দেখিয়ে এমপিও তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপালপুর বিএম কলেজ এবং ডা. এমআর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ দু’টি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মোকছেদুর রহমান আরিফ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবদি একদিনেও পাঠদান হয়নি ডা. এমআর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে। গোপালপুর বিএম কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘদিন ধরে চালু দেখিয়েছেন মহিলা কলেজটি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ভোকেশনাল শাখায় কম্পিউটার, এগ্রোবেজ ফুড, জেনারেল ইলেক্ট্রিক্যাল ও পোল্ট্রি ট্রেডে ৩৫ জন করে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১শ ৪০ জন। এছাড়া, বিজনেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট (বিএম) শাখায় হিসাব বিজ্ঞানে ১শ ৫০ এবং কম্পিউটার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখায় ২শ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে একজনকেও পাওয়া যায়নি।

রবিবার দুপুরে সরেজমিনে ডা. এমআর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজে কোন শিক্ষার্থী নেই। নেই চেয়ার ও বেঞ্চ। মাঠে ময়লা পরিষ্কার করছিলেন কলেজের দপ্তরি রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, এখন হতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হবে, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে কলেজে ছুটে আসেন শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের কলেজে নিয়মিত পাঠদান করা হয়। এমপিও হওয়ায় নতুন উদ্যমে পাঠদান শুরু হবে বলে জানান তিনি। কিন্তু, শ্রেণিকক্ষে কোন বেঞ্চ ও টেবিল পাওয়া যায়নি।

এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ে আসেন মোকছেদুর রহমান আরিফের ভাই জাহেদুর রহমান। তিনি ওই মহিলা বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তিনি বলেন, গোপালপুর বিএম কলেজ ও ডা. এমআর মহিলা কলেজ দু’টি আমরাই প্রতিষ্ঠা করেছি। শিক্ষার্থীও আশানুরূপ বলে জানান তিনি। এমপিও হওয়ায় নতুন করে গুছিয়ে তোলা হচ্ছে মহিলা কলেজটি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোপালপুর বিএম কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন মোকছেদুর রহমান আরিফ। তিনি কলেজটির অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পরে শুধুমাত্র কাগজ-কলমে ডা. এমআর মহিলা কলেজটি চালু দেখান তিনি। এই কলেজের অধ্যক্ষ করেছেন তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার মুক্তিকে। দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি পদটি আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি।

স্থানীয় মজিবর রহমান ও আবু বক্কর জানান, একদিনের জন্য ক্লাস হয়নি মহিলা বিএম কলেজে। শুধুমাত্র কয়েকটি ক্লাসরুম তুলে রাখা হয়েছে প্রায় বছর পাঁচেক আগে। হঠাৎ শুনি মহিলা কলেজটি এমপিও হয়েছে। তারা আরো বলেন, মিঠাপুকুরে অনেক বিএম কলেজ দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত চললেও সেগুলো এমপিওভুক্তি হয়নি। এই মহিলা কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা।

মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহেদুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়। আমি মাঠ পর্যায়ে ছোট কর্মচারী, কিভাবে এমপিও হলো আমি বলতে পারছি না।

গোপালপুর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ও ডা. এমআর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের সভাপতি মোকছেদুর রহমান আরিফ বলেন, এবারে যে প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তি হয়েছে, বুঝতে হবে সেগুলোর অবশ্যই কোয়ালিটি রয়েছে।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর