মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৮:২৫ এএম


উপাচার্যের পদত্যাগই শেষ কথা নয়

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ২ অক্টোবর ২০১৯  

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বস্তুত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরই অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি যদিও শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দম্ভোক্তিতে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন; উপাচার্যের আসনে বসার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছিলেন আগেই। তিনি যেভাবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মর্যাদাহানি এবং মানসিক নির্যাতন করেছেন, তা উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে নজিরবিহীন।

বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আমরা অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই সেই শিক্ষকদেরও, যারা নানামুখী চাপের মুখেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, এমনকি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের এবং বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে পরিমিতির বিজয় হয়েছে। কিন্তু কেবল উপাচার্যের পদত্যাগের মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গত কয়েক বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম ও অনৈতিকতার প্রসঙ্গ চাপা পড়তে পারে না।

আমরা দেখছি, আন্দোলনকারীরা উপাচার্য ও তাকে ঘিরে থাকা সুবিধাভোগী বলয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনেও স্পষ্টত উঠে এসেছে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নৈতিক স্খলনের চিত্র। আমরা মনে করি, এসব অভিযোগের ব্যাপারে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগের পর অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন ইতিমধ্যে তার মূল চাকরিস্থল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আবেদন করেছেন।

কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, উপাচার্য হিসেবে তার অনিয়ম ও অনৈতিকতার উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত যোগদানের বিষয়টি স্থগিত রাখা। বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্যের অপকর্মের সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ব্যক্তির বিদায়েও ব্যবস্থা আগের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে।

আমরা এও দেখতে চাইব, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন উপাচার্য হিসেবে একজন সৎ, যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাবিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয় যে সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, এক ব্যক্তির চরম বিচ্যুতির কারণে তা বহুলাংশে তিরোহিত হয়েছে। নতুন উপাচার্যের প্রথম কাজ হবে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যাতে মুক্তভাবে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের চর্চা করতে পারে এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে- নতুন উপাচার্যকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা দেখতে চাইব, শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরে গেছে। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি সবার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, এমনকি গোপালগঞ্জবাসী- সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া সেখানে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। (সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত সম্পাদকীয়)

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর