মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ১১:৪৮ এএম


উপবৃত্তি বণ্টনের কাজ ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে আসবে কখন?

মুসতাক আহমদ

প্রকাশিত: ০৮:৪২, ৪ এপ্রিল ২০১৯  

উপযুক্ত বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা নির্বাচন ও বণ্টনে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং একই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার সুবিধা দেয়ার মতো ত্রুটি দূর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০১২ সালে।

কথা ছিল, যখন যেই উপবৃত্তি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে, তখনই সেটি এই ট্রাস্ট ফান্ডের মধ্যে একীভূত হবে। গত ৭ বছরে সবগুলো প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সেগুলো ফের শুরু হয়। এরপর সেই মেয়াদও আগামী জুনে শেষ হবে। এ কারণে ইতিমধ্যে দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবু উপবৃত্তি বণ্টনের কাজ ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে আনা হয়নি।

এখানেই শেষ নয়, এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠনকালে পরিকল্পনা ছিল সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উৎস থেকেও অর্থের সংস্থান করা হবে। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডে সরকার ১ হাজার কোটি টাকা ‘সিডমানি’ (যে অর্থের শুধু লাভ ব্যয় করা যাবে) দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সিএসআরের (ব্যবসায়িক সামাজিক দায়বদ্ধতা) একটি টাকাও ফান্ডে নেয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রাস্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবিএম জাকির হোসাইন বলেন, সব উপবৃত্তি একীভূত করার কাজ মন্ত্রণালয়ের। এ ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বিভিন্ন সভায় আলোচনা হয়েছে। আলাদা পত্রও দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সিএসআর খাত থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ নেয়া হয়নি। তবে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, চলতি বছর ২০১৪-২০১৫ থেকে তিনটি শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ খাতে ১৭০ কোটি টাকা দরকার। কিন্তু ট্রাস্ট ফান্ডে ব্যয়ের মতো আছে ৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯৫ কোটি টাকাই ঘাটতি পড়ে গেছে। এমন অবস্থায় চলতি বছর উপবৃত্তি দেয়া যাবে কিনা- সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাস্ট ফান্ডের এমডি বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের সভার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছি। তার সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় ওঠে আসবে। আশা করি সব সমস্যার সমাধান আমরা তার কাছ থেকেই পাব।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাস্ট ফান্ডের নবম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায়ও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এরপর সভায় বলা হয়, ট্রাস্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে বারবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদান নেয়া শোভন নয়। আইন অনুসরণ করে অবশ্যই সিএসআর খাত থেকে সিডমানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন পরামর্শ দেন, আগামী ৫ বছর ট্রাস্ট থেকে কত জনকে উপবৃত্তি দেয়া হবে এবং এ খাতে কত টাকা দরকার হবে- তার একটি প্রক্ষেপণ থাকা বাঞ্ছনীয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি দেশের ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকারদের তালিকা করে অনুদান চাওয়ার পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বলেন, ট্রাস্ট ফান্ড স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ২৪ ফেব্রুয়ারির ট্রাস্টি বোর্ডের নবম সভায় বলেন, ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে সব উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনায় আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। তাই ট্রাস্টে সব উপবৃত্তি প্রকল্প স্থানান্তরের প্রস্তাব যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। এ বিষয়ে কার্যকর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া আছে। আশা করছি এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠনকালে সিদ্ধান্ত ছিল, ষষ্ঠ থেকে স্নাতকের ছাত্রছাত্রীদের দেয়া সরকারি উপবৃত্তি কার্যক্রম এই ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে আনা হবে। প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত মোট ৭টি উপবৃত্তি প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকে পিইডিপি-৪ (চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প)। এর আওতায় এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে স্নাতকে ৪০ লাখের বেশি ছাত্রছাত্রী উপবৃত্তি পাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উপবৃত্তির জন্য চারটি প্রকল্প আছে। এগুলো হচ্ছে- এসইএসপি, এইচএসএসপি, সেকায়েপ ও সেসিপ। এরমধ্যে প্রথম দু’টির অর্থায়ন করে সরকার।

পরের দু’টিতে সরকারের পাশাপাশি যথাক্রমে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি অর্থায়ন করে। এছাড়া øাতকের ছাত্রছাত্রীরা উপবৃত্তি পায়। এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সরবরাহ করা হয়। সেসিপের মেয়াদ শেষ হওয়াকে সামনে রেখে সম্প্রতি এসইডিপি (মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি) নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রিক সব প্রকল্প একীভূত করার লক্ষ্য আছে। সূত্র জানিয়েছে, উপবৃত্তি প্রকল্পও ওই কর্মসূচির অধীনে নেয়ার তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া নিশ্চিতের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তার জন্য বৃত্তি দিতে সাত বছর আগে শেখ হাসিনার ইচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়।

সৌজন্যে: যুগান্তর
এ জেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর