শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:১৭ পিএম


ইথানলে করোনার চিকিৎসা সম্ভব : বাকৃবি গবেষক ড. আলিমুল

মো: আরিফুল ইসলাম, বাকৃবি

প্রকাশিত: ২২:২৫, ৮ এপ্রিল ২০২০  

বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে পুরো বিশ্ব নাজেহাল। বিজ্ঞানীরা দিন রাত ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির জন্য প্রয়োজন অনেক সময়। অন্যদিকে মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। এ প্রাণঘাতী ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টার মধ্যে একটুখানি যেন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

গবেষণা দলের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এবং হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আলিমুল ইসলাম বলেন, এলকোহল বা ৬০ শতাংশ ইথানলে সব ধরনের ভাইরাস মারা যাবে। এমনকি কোষের সাথে লেগে থাকা ভাইরাসের চর্বির আবরণ (লিপিড এনভেলোপ) ভেঙ্গে দিয়ে এবং আমিষ রিসেপ্টর বা এনজাইমসহ সবকিছু নষ্ট করে দিয়ে ভাইরাসকে মেরে ফেলবে। এছাড়া কোষের ভিতরে থাকা ভাইরাসও মারা যাবে। এলকোহলের পানির প্রতি আকর্ষণ থাকায় তার সংষ্পর্শে আসা কোষগুলো থেকে পানি বের করে নিয়ে শুষ্ক করে ফেলবে এবং ভাইরাসসহ কোষটি মারা যাবে। ভাইরাস ১-২ মিনিটের মধ্যে সহজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এ উভয় পদ্ধতি ব্যবহারে গলা ও শ্বাসতন্ত্রের পর্দার সাথে লেগে থাকা সব মুক্ত বা ভাসমান ভাইরাস স্বল্প সময়ের মধ্যেই ধ্বংস হবে।

এছাড়া প্রদাহজনিত কারণে (গলা ব্যথার ক্ষেত্রে) আক্রান্ত জায়গার কোষগুলো থেকে সাময়িকভাবে জলীয় পদার্থ শোষণ করলে প্রদাহ কমে যাবে এবং ব্যথা দ্রুত কমাতে সাহায্য করবে। সেই ক্ষেত্রে রোগীরা ভীষণ আরাম বোধ করবে। যদি ১-২ দিন কুলকুচি করলেই ব্যথা চলে যায়। তাহলে আর কুলকুচি করার প্রয়োজন নেই। তবে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে দুই দিনে ব্যথা না কমলে আরো ১-২ দিন ব্যবহার করাই ভালো।

ড. আলিমুল বলেন, তবে এলকোহল খেলে কাজ হবে না। কারণ এই ভাইরাস গলায় ও শ্বাসযন্ত্রে থাকে। তাই ১-২ মিনিট সময় নিয়ে কুলকুচি করতে হবে যাতে ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে মারা যায়।

তিনি বলেন, আমাদের শরীর যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিউকাস বা শ্লেষ্মা তৈরি করে, তখনই বাড়তি মিউকাস নাক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সেটাকেই আমরা বলে থাকি ’নাক দিয়ে পানি পড়া’ যা সাধারন সর্দি-জ্বরেও হয় আবার কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও তা হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারন সর্দি- জ্বর থেকে কোভিড-১৯ কে পার্থক্য করা বেশ কঠিন। তাই আমরা মনে করি, রোগের প্রাথমিক স্তরে যদি এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তাহলে সাধারন সর্দি-জ্বর, কাশি এমনকি কোভিড-১৯ এর মত প্রাথমিক লক্ষণ থেকে খারাপ পর্যায়ে যাওয়ার পূর্বেই সহজেই মুক্তি পেতে পারি।

তিনি জানান, জ্বর, গুরুতর গলা ব্যথা, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, নাকে জ্বালা-পোড়া করা এবং মাথা ব্যথার রোগীরা (মৌসুমী ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলোর প্রাথমিক প্রকাশ) এবং যাদের বয়স ১২ বছরেরে উর্ধ্বে তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যবহারবিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে ৬০% ইথানলের দ্রবণ তৈরি করে তা সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার বোতলে তিন কাপ খাঁটি ইথানল (ইথাইল অ্যালকোহল ৯৯.৯%) এর সাথে দুই কাপ পানি মিশিয়ে শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখতে হবে।

একটি চায়ের কাপে অথবা একটি ছোট আকারের মগে ৬০ মিলি (১২ চা চমচ) ফুটন্ত গরম পানি ঢালতে হবে। তারপর এতে অ্যাসিটোন ফ্রি খাঁটি ৪০ মিলি (৮ চা চামচ) ইথানল (ইথাইল অ্যালকোহল ৯৯.৯%) ঢেলে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত নাক দিয়ে ওই বাষ্প টানতে হবে। এ পদ্ধতিটি অবলম্বন করে শ্বাসনালী ও ফুসফুসে অবস্থানরত ভাইরাস মারা যাবে।

ইথানল বাষ্প টানার ঠিক ১০-১৫ মিনিট পর পরিস্কার একটি চায়ের কাপে অর্ধেক কুসুম গরম পানি ও বাকি অর্ধেক তৈরিকৃত ৬০% ইথানল মিশিয়ে সবটুকু (৫০ মিলি বা ১০ চা চামচ) দিয়ে ৩০ সেকেন্ড করে দুইবার কুলকুচি/গড়গড়া করতে হবে। এভাবে দিনে ৩-৪ বার করতে হবে। প্রতিবার কুলকুচি করার ৪-৫ মিনিট পর সাধারণ পানি দিয়ে হাল্কা কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে প্রথম কুলকুচিতে মিউকাস বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার হয়ে যাবে দ্বিতীয়বার কুলকুচিতে জীবানু মারা যাবে।

কুলকুচি করার পর তা নির্দিষ্ট কোনো পাত্রে বা স্থানে ফেলতে হবে যেখানে ১% ব্লিচিং পাউডার রাখতে হবে। কারণ গলা থেকে ভাইরাস কুলকুচির মাধ্যমে যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না যায় সেদিকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো কারনে পেটে গেলে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কারন এটি ড্রিংকিং এলকোহল। সম্ভব হলে সাথে সাথে কিছু পানি পান করা যেতে পারে। এছাড়া যে মাত্রায় ব্যবহার করা হবে তা স্বল্প সময়ের জন্য মোটেও ক্ষতিকারক নয়। তবে কোনো অবস্থাতেই মিথানল ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়া প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তিন থেকে চার দিনের জন্য আদা ও দারুচিনি মিশ্রিত গরম পানি পান করা যেতে পারে। যে সব খাবার বা ফলমূলে এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যেমন লেবু, কমলা, মাল্টা এগুলো প্রতিদিন খেতে পারলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

গবেষণা দলে আরো ছিলেন পিএইচডি শিক্ষার্থী ডা. মো: আসির উদ্দিন, ডা. মো: মুখলেছুর রহমান ও ডা. মো: এনামুল হক।

এই পদ্ধতি ভাইরাল জ্বর বা কোভিড-১৯ এর লক্ষণ শুরু হওয়া ব্যক্তিদের আরোগ্যের জন্য একটি কার্যকরী উপায় বলে মনে করছেন তারা।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর