রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ৫:০০ এএম


ইউজিসির সদস্য পদে নিয়োগ পেতে শিক্ষকদের দৌড়ঝাঁপ

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৭:৫৫, ১১ জুন ২০১৯  

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তিনটি সদস্য পদ বর্তমানে শূন্য। গত ২৭ মে একযোগে দু`জন সদস্যের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ পদগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আরেকটি পদ আগে থেকেই শূন্য ছিল। তিনটি শূন্য পদে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার সমর্থক শিক্ষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ।

ইউজিসিতে চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি ৫ জন সদস্য রয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে গত ২২ মে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। ইউজিসি সদস্যদের তিনটি শূন্য পদের মধ্যে একটি পদ দুই বছর ধরে খালি পড়ে আছে। গত ২৭ মে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ আলী মোল্লা ও অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ দুটি সদস্যের পদও শূন্য হয়েছে। তারা দু`জন যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে যোগ দিয়েছিলেন। মেয়াদ শেষে তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদমর্যাদার ইউজিসি সদস্য পদে নিয়োগ পেতে সরকার সমর্থক শিক্ষকরা চেষ্টা-তদবির শুরু করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় উইং থেকে জানা গেছে, সদস্যের তিনটি পদ শূন্য হওয়ায় এরই মধ্যে নতুন তিনজনকে নিয়োগের বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে এর মধ্যে একজন অধ্যাপক বয়সে অত্যন্ত নবিশ হওয়ায় প্রস্তাবটি ফেরত এসেছে।

ইউজিসি সদস্য পদে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার সমর্থক শিক্ষকরা ব্যাপক লবিং শুরু করেছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সমপদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার এ পদে পরবর্তী চার বছরের জন্য নিয়োগ পেতে গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক তদবির বেশ জোরালো হয়েছে। অসংখ্য পদপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে এ পদের জন্য কয়েকজনের নাম নতুন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল মিলেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর তিনটি নাম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্র্রপতির দপ্তরে নিয়োগের জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিগন্যাল পেলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের মধ্য থেকে যে কোনো তিনজনকে পরবর্তী চার বছরের জন্য ইউজিসি সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেবে। সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন- সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম (দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামদ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী। এর বাইরে ইউজিসির সদ্য সাবেক সদস্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ আলী মোল্লাও এ পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেতে চেষ্টা-তদবির করছেন।

আলোচিতদের মধ্যে অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত। ইউজিসি সদস্যপদ প্রত্যাশীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর কুয়েটের দুই মেয়াদের উপাচার্য হিসেবে সফল দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ একজন নীতিনির্ধারকের আত্মীয় বলেও জানা গেছে। অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান, জসীমউদ্‌দীন হলের প্রোভোস্ট এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও ছিলেন। আলোচিত প্রত্যেকেরই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সৌজন্যে: সমকাল
এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর