মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:৫০ পিএম


আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ২৩ জানুয়ারি ২০২০  

এসএসসি পরীক্ষা আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হইতেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চার শতাধিক কেন্দ্রসচিবকে ডাকিয়া পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে মোট ২৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই উপজেলা সদরের বাহিরে প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক রাখা যাইবে না। পরীক্ষায় অসদুপায় ঠেকাইতে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই দেহতল্ল­াশি করিবার নির্দেশনাও দেওয়া হইয়াছে। কেন্দ্রে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য এক জন কক্ষ পরিদর্শক এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুই জন করিয়া দায়িত্ব পালন করিবেন। নির্দেশনায় আরো বলা হইয়াছে, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কেহ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়া কেন্দ্রে প্রবেশ করিতে পারিবেন না।

পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই প্রবেশ করিতে হইবে। এই সময়ের পরে কোনো পরীক্ষার্থী আসিলে কেন্দ্রসচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্ট্রার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করিয়া কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দান করিতে পারিবেন। ১৪৪ ধারা জারিকৃত স্থানগুলিতে লাল পতাকা টানাইতে হইবে। একই সঙ্গে, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও বিতরণের নিরাপত্তা বিষয়ে অনেকগুলি নির্দেশনা তো রহিয়াছেই। উপরন্তু, দুর্নীতি ঠেকাইতে পহেলা ফেব্রয়ারি হইতে পরীক্ষা চলাকালীন পুরা সময় কোচিং সেন্টারগুলি বন্ধ রাখিতেও নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।


দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিগত কয়েক বত্সর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা গ্রহণ অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হইয়াছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই হতাশা কাটাইয়া গত বত্সর প্রশ্নপত্র ফাঁসের তেমন জোরালো অভিযোগ না উঠিলেও অনিয়মিতদের প্রশ্নে নিয়মিতদের পরীক্ষা, কেন্দ্রে কম প্রশ্ন পাঠাইবার কারণে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করিয়া পরীক্ষা গ্রহণ, ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র রাখিয়া পাশের কেন্দ্র হইতে প্রশ্নপত্র আনিয়া পরীক্ষা গ্রহণ, এমনকি নির্ধারিত সময়ের পরে পরীক্ষা শুরু করিবার মতো নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটিয়াছিল।

আশার কথা, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে মন্ত্রণালয় ভালো ভূমিকা নিয়াছে। আমরা আশা করিব, এইবারও তাহার ব্যত্যয় ঘটিবে না। অনেক সময় দেখা যায়, এই সকল অনিয়ম, ত্রুটি ও দুর্নীতির সঙ্গে যাহারা জড়িত, তাহারা অনায়াসেই পার পাইয়া যায়। কিন্তু সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিতে পারিলে অনিয়ম, ত্রুটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা কঠিন নহে। আন্তরিকতার সঙ্গে সবাই নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিলে ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাড়াও শিক্ষা খাতের অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টানিয়া ধরা অসম্ভব হইবে না। মূলত জবাবদিহি না থাকা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই সকল পর্যায়ে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটিতেছে। শিক্ষার হার বাড়িলেও মানের অবনতি ঘটিয়া চলিয়াছে।

গত ১০ বছরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বাড়িয়াছে। এইবার মানের দিকে নজর দিতে হবে। আর মান নিশ্চিত করিতে প্রথমেই দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনিতে হইবে। এইবারের এসএসসি পরীক্ষায় গত বত্সরের ভুলগুলির পুনরাবৃত্তি ঘটিবে না—এই প্রত্যাশাটুকু আমরা করিতে চাই।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকীয় থেকে নেয়া

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর