শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৪৭ পিএম


দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা আগামী বছর থেকে

শরীফুল আলম সুমন

প্রকাশিত: ০৮:৩৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১০:২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির আগে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু আছে। তবে আগামী বছর থেকে চালু হচ্ছে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। ফলে সরকারি প্রাথমিকেও এখন থেকে চার বছর বয়সে ভর্তি হতে হবে। এই শ্রেণির নাম হবে ‘শিশু শ্রেণি’। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বছর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মোট পাঁচ হাজার বিদ্যালয়ে চালু করা হবে এই শিশু শ্রেণি। এরপর ২০২২ সালের মধ্যে সব স্কুলে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে চাই। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলা আছে। সে কারণে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নেরও কাজ চলছে। প্রাক-প্রাথমিকে দুটি ক্লাস চালু হলে প্রথমটিতে মূলত খেলাধুলাই থাকবে। খেলার ছলে শিশু যা শিখতে পারে সেটাই যথেষ্ট হবে। ফলে পরের শ্রেণিতে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে স্কুলে আসবে।’

জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত একটি শ্রেণি যুক্ত হলে ১১ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে নিরীক্ষা জরিপে চিহ্নিত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে একটি করে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ চার বছর বয়সী শিশুদের উপযোগী হতে হবে। সব বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। কোমলমতি শিশুদের দেখভাল করার জন্য নিয়োগ করতে হবে একজন করে যত্নকারী।

সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে সীমিত আকারে এবং ২০১৩ সাল থেকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করায় বিদ্যালয়ে

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমেছে। ২০১৩ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৯.৫ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৯ শতাংশ। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুর পর প্রথম শ্রেণিতে নিট ভর্তির হার, শিক্ষাচক্র সমাপনীর হার, উপস্থিতির হার, সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। অন্যদিকে অনুপস্থিতির হার, পুনরাবৃত্তির হার কমেছে।

বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে সারসংক্ষেপে বলা হয়, ‘এশিয়ার মধ্যে জাপান, কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ভারতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দুই বছর মেয়াদি। ইউনেসকোর ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উন্নত বিশ্বের দেশসহ ১০ শতাংশ দেশে তিন বছর মেয়াদি এবং ৪৯ শতাংশ দেশে দুই বছর মেয়াদি। আমাদের দেশেরও বেসরকারি উদ্যোগে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রসার ঘটছে। এসব স্কুলেও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর