রবিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:৩২ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

আর কোনো সরকারি কলেজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১২, ২২ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ০০:৫৯, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

সরকারি কলেজগুলো আপাতত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকছে। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত করার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নীতিগত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকায় সাহস করে বিষয়টি কেউ তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলতে পারছেন না। সরকারি কলেজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার কাজও চার বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্প্রতি বলেন, ‘সরকারি কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। খুবই তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমরা আরও ভেবে চিন্তে সরকারি কলেজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিব।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, কোর্স-কারিকুলাম একেকরকম। তাদের পক্ষে সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোর জন্য অভিন্ন সিলেবাস তৈরি, কোর্স-কারিকুলাম, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা কঠিন। কর্মকর্তারা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেই। কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিতে নিবন্ধন করতে হবে। লোকবল ও পরীক্ষা নিতে অবকাঠামোর প্রয়োজন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, লাখ লাখ শিক্ষার্থীসহ কলেজ অধিভুক্তি করলে সেশনজটসহ নানা জটিলতা তৈরি হবে। এতে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় উভয় ক্ষেত্রের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। ঢাবির অভিজ্ঞতা থেকে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। ওই সময় এসব কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এক লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী ছিল।

ঢাবির অধীনে আসার পর সাত কলেজের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। যখন অধিভুক্ত হয় তখন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার মুহূর্ত চলছিল। কিন্তু তখনো বাকি থাকে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা। পরে ঢাবির অধীনে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হলেও ফল আটকে থাকে। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ দীর্ঘ এক বছরেও হয়নি।

অপরদিকে একই শিক্ষাবর্ষের জাবির অধীন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশিত হয়েছে। সহপাঠীদের জুনিয়র হয়ে যাওয়ায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সময়সূচিসহ (রুটিন) কয়েকটি দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা নানাভাবে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ফল প্রকাশের আবেদন জানালেও কোনো সাড়া মিলেনি। বরং আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলে চোখ হারান তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। সব মিলিয়ে সাত কলেজে অধ্যয়নরত কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির বিষয়টি গোড়াতেই পরিপক্ব ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতির অভাব ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তাদের টানাপড়েন ছিল। এক বছর পার হলেও শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের (শিক্ষার্থী) শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত। এ অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা আর সামনে আগাতে চাই না।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান। জাবির সেশনজট কমাতে ২৮১টি সরকারি কলেজ সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

সূত্র: আজকালের খবর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর