সোমবার ২৫ মে, ২০২০ ২০:২৬ পিএম


‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ :একটি শুভ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৯, ৩০ মার্চ ২০২০  

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মোট ১৭০টি দেশে ছড়াইয়া পড়িয়াছে বিশ্ব মহামারি হিসাবে দেখা দেওয়া নোভেল করোনা ভাইরাস। ইহাতে আক্রান্ত হইয়াছে ৬ লক্ষাধিক মানুষ এবং মৃত্যুবরণ করিয়াছে ৩১ হাজারেরও অধিক। যুক্তরাজ্যের খোদ প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী এই সংক্রমণে আক্রান্ত হইয়া আইসোলেশনে আছেন। করোনা ভাইরাস হইতে রক্ষার জন্য ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলিতেছে লকডাউন। ইহাতে প্রায় দেশবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে চলিয়া গিয়াছেন। এই ভাইরাস প্রতিরোধে কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন হইল উত্তম দাওয়াই। যাহারা এখনো আক্রান্ত হন নাই তাহারা এখন সচেতনতাস্বরূপ নিজেদের গৃহবন্দি করিয়া রাখিয়াছেন। লোকজনের সংস্পর্শ হইতে যথাসম্ভব দূরে রহিয়াছেন। বলা বাহুল্য, এই ভাইরাসে সংক্রমণের দিক হইতে সবচাইতে ঝুঁকিতে রহিয়াছে শিশু ও বৃদ্ধরা যাহাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। এই কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ বন্ধ। তাই বলিয়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া কি চলিবে না? কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাহাতে ঘরে বসিয়া লেখাপড়া চালাইয়া যাইতে পারে এবং করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটির ক্ষতি পোষাইয়া উঠিতে পারে এইজন্য একটি শুভ উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে সরকার। এই উদ্যোগ বা কর্মসূচির নাম ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’।

‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মূলত গতকাল হইতে সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ষষ্ঠ হইতে নবম শ্রেণির ক্লাস শুরু হইয়াছে। পাশাপাশি দশম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ারও প্রস্তুতি চলিতেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দেওয়া ক্লাসের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টা ৫ মিনিট হইতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একনাগাড়ে মোট ৮টি ক্লাস হইবে। প্রতিটি ক্লাস হইবে ২০ মিনিটের। বেলা ২টা হইতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলিবে ইহার পুনঃপ্রচার। ইহাতে বিভিন্ন উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খ্যাতিমান শিক্ষকরা পাঠদান করিবেন। এমনকি ক্লাস শেষে তারিখ অনুযায়ী হোমওয়ার্ক দেওয়া হইবে। সেই হোমওয়ার্ক শিক্ষার্থীরা পরে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষকের নিকট জমা দিতে পারিবেন। ইহার ওপর প্রাপ্ত নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হইবে বলিয়াও জানা যায়।

এই দুর্যোগকালেও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যস্ত রাখিতে ইহা একটি চমত্কার উদ্যোগ। এই সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর উচিত নিজ নিজ বাসার টেলিভিশনের সামনে চোখ রাখা। স্কুলের সময়টুকু লেখাপড়ার জন্যই ব্যয় করা। যেহেতু আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ইহার পরও স্কুল খোলার ব্যাপারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিদ্যমান, তাই অভিভাবকদেরও উচিত এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া। এই কর্মসূচি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দদায়কও হইবে নিশ্চয়ই। বর্তমানে সারাদেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থী ঘরবন্দি। ইহার মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটিরও বেশি। এই ১ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য এই দুঃসময়ে আশার আলো জ্বালাইয়া দিল ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ কর্মসূচি। আমরা এই কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি। পাশাপাশি বলিতে চাই, দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জন্য লেখাপড়াবিষয়ক একটি পৃথক টিভি চ্যানেল আজ জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। সরকারকেই এই ব্যাপারে উদ্যোগী হইতে হইবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর