সোমবার ০১ জুন, ২০২০ ৫:৫৭ এএম


আপিল করতে পারবে এমপিওভুক্তি থেকে বাদ পড়া ১১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

নূর মোহাম্মদ

প্রকাশিত: ০৮:৩৬, ১ মে ২০২০  

দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন এমপিওভুক্তি দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংশোধিত তালিকায় বাদ পড়েছে ১১১টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যারা গত বছর নতুন এমপিও দেওয়া ২৭৩০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল। কিন্তু বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ থেকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বাদ পড়েছে। এমপিওভুক্তির আবেদনের শর্ত পূরণ না করেও এমপিওভুক্ত হওয়া, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম, পাসের হার কম, অবকাঠামো না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তারা বাদ পড়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানও ছিল বাদপড়া তালিকায়। এসব কারণে বাদপড়া  প্রতিষ্ঠানগুলো ফের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আপিল করতে পারবেন। এদিকে আগামী জুনের মধ্যে এমপিও শিক্ষকদের বেতন ছাড় করার চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।  

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও শাখা সূত্রে জানা গেছে, নতুন এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের এমপিও কোড দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি), মাদ্রাসা ও কারিগরি অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। অধিদপ্তরে পাঠানো তালিকায় ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বছর এমপিওভুক্তির তালিকা ঘোষণার পর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ না করেও এমপিওভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম, পাসের হার কম এবং অবকাঠামো না থাকাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দুটি কমিটি গঠন করে। তারা দীর্ঘদিন যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেয়।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক জানান, এমপিওর কোড পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের এখন নিয়মানুযায়ী অনলাইনে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে হবে। ঈদের আগেই তাদের বেতন ছাড়ের চেষ্টা করব।

এদিকে দীর্ঘদিন পর নানা বিষয় বিবেচনা করে এমপিওর ঘোষণা এলেও বাদপড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ। শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছি। অনেকের চাকরির বয়স শেষের পথে। এ অবস্থায় আমাদের এমপিও শেষ মুহূর্তে আটকে গেলে আমাদের মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হবে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, যোগ্য সব প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্তি করা হোক। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় মাত্র দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ সেই দাবি অপূর্ণই থেকে গেল।

বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সাতস্তরের মোট ৯৮২টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে তালিকা করে এসব প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কোড নম্বর দিয়ে বেতন-ভাতা প্রদানে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১,৬৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের গত বছরের (২০১৯) জুলাই থেকে নির্ধারিত বেতনভাতা পরিশোধ করতেও প্রজ্ঞাপনে উলেস্নখ করা হয়।


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে নির্বোচিত এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এমপিও কোডসহ বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর