শনিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ৭:১৯ এএম


আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর হাতে লাঞ্ছিত শিক্ষক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫১, ৪ নভেম্বর ২০১৯  

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক শিক্ষক। সোমবার ( ৪ নভেম্বর) জেএসসি পরীক্ষা শেষে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে জড়ো হন। পরে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

এর আগে অনিয়মে রাজি না হওয়ায় শনিবার (২ নভেম্বর) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের পুকুরে ফেলে দেয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের মেয়ে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা শেষে রাধানগর হাজী শাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোকলেছার রহমানসহ তিন কক্ষ পরিদর্শক ওই পরীক্ষার্থীসহ অন্যদের খাতা নিয়ে নেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ে কক্ষ পরিদর্শক মোকলেছার রহমানের কাছে আরও সময় চায়। বাড়তি সময় না দেয়ায় সে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে মা রোজিনা আক্তার রোজির কাছে অভিযোগ করে। মেয়ের অভিযোগ শুনে রোজিনা আক্তার পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে আকস্মিক মোকলেছার রহমানের শার্টের কলার ধরে থাপ্পড় মারে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষককে মারতে উদ্যত হয়। পরে সহকর্মীরা ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এসে জড়ো হন। বিকেলে ইউএনও সৈয়দ মাহমুদ হাসান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলামের মধ্যস্থতায় অভিযুক্ত রোজিনা আক্তার ক্ষমা চাইলে বিষয়টির মীমাংসা হয়।

একই পরীক্ষা কক্ষের পরিদর্শক আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের সামনেই মোকলেছার রহমানকে ওই নারী মারধর করে। এক পর্যায়ে সে জুতা খুলেও মারপিট করে। বিষয়টি আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষক মোকলেছার রহমান বলেন, পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা বাজার পরও ওই শিক্ষার্থী আমার কাছে বাড়তি সময় চায়। আমি রাজি না হওয়ায় তার মা এসে আমাকে লাঞ্ছিত করে। পরে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান গোলাপ বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন পুরো তিন ঘণ্টা ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে মানসিক হয়রানি করেন। পরীক্ষা শেষে আমার মেয়ে কান্না করে তার মাকে বিষয়টি জানালে সে ওই শিক্ষককে বকাঝকা করে।

এডুকেশন বাংলা / এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর