শনিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ৮:১৪ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

আইসিটি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১১:২০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়টি আবশ্যিক করা হয়েছে। কিন্তু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে একের পর এক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওর জন্য আবেদনের সুযোগই থাকছে না। ফলে দীর্ঘদিন পর এই বিষয়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির পথ তৈরি হলেও এক হাজার ৫০০ জন শিক্ষকের সেই সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে যৌক্তিকতা নেই। যাঁরা দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন, তাঁদের এমপিও দেওয়া হচ্ছে না। অথচ যাঁরা অনেক পরে নিয়োগ পেয়েছেন তাঁদের এমপিও দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তেলেসমাতিতে সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের এমপিও দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি আবশ্যিক করা হয়। বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এই বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়। কারণ নির্দিষ্ট শিক্ষক ছাড়া বাধ্যতামূলক ওই বিষয়ে পড়ালেখা করানো সম্ভব নয়। ওই বছরই এমপিও নীতিমালা পরিমার্জিত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবহেলায় আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক প্যাটার্নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে শিক্ষকরা এক প্রকার বিনা বেতনেই চাকরি করতে থাকেন। পরে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রে আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেয়। তবে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানকে বেতন-ভাতাদি বহনের শর্ত দেয়।

জানা যায়, গত জুন মাসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়। এতে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও আইসিটি বিষয়ের শিক্ষকদের প্যাটার্নভুক্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পদে এরই মধ্যে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও প্রদানের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এই আদেশ জারির পর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে আইসিটি বিষয়ের সহকারী শিক্ষকদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মাধ্যমিক উইংয়ের সহকারী পরিচালক (সেসিপ) মো. সবুজ আলম স্বাক্ষরিত এক পত্র সব জেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নিম্ন মাধ্যমিক এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিলের পর বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। যাদের এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।

মাউশি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি ‘বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত’ শব্দ ব্যবহার না করত তাহলে ২০১৩ সাল থেকে নিয়োগ পাওয়া সব শিক্ষককে এমপিও দেওয়া সম্ভব হতো। যেহেতু ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল এই পদে নিয়োগ দিতে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, তাই এর পর থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদেরই আমরা এমপিওভুক্ত করতে পারব।

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে আইসিটি বিষয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের এই চিঠির পর সেখান থেকে মাত্র ৫০০ শিক্ষককে এমপিও দেওয়া সম্ভব হবে। বাকি এক হাজার ৫০০ শিক্ষকের অপেক্ষার প্রহর আরো দীর্ঘ হলো।

নাম প্রকাশ না করে শরীয়তপুর জেলার একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ‘সরকার ২০১৩ সালে আইসিটি বিষয়টি বাধ্যতামূলক করল। অথচ সেই সময়ে নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হবে না। এটা সম্পূর্ণই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আইসিটি শিক্ষকদের নিয়োগের পরিপত্র তো ২০১৩ সালেই জারি করা উচিত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেদের ভুল সংশোধন না করে নতুন আদেশের মাধ্যমে উল্টো আমাদের মহাবিপদে ফেলল। এখন যারা আমাদের পরে নিয়োগ পেয়েছে তারা এমপিও পেয়ে যাবে, আমরা পাব না।’

এসব বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী আমাদের ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিলের পর নিয়োগপ্রাপ্তদেরই শুধু এমপিও দেওয়ার সুযোগ আছে। যেহেতু ২০১৩ সালের পর নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিও পেতে জটিলতা তৈরি হয়েছে তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলব। আশা করছি, একটা সমাধান বের হয়ে আসবে।’

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর