বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:৫৩ পিএম


অসহায় শিক্ষক নাজমুল হকের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন

প্রদীপ কুমার দেবনাথ

প্রকাশিত: ০৫:৪৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বসিলায় অবস্থিত ফিরোজা বাশার আইডিয়াল কলেজের একজন শিক্ষক মোঃ নাজমুল হক। একজন শিক্ষক হয়েও তিনি বড় অসহায়। ঘরে তার দুই কন্যা এবং তার স্ত্রী কঠিন রোগে আক্রান্ত স্ত্রী। এমনিতেই সংসার চলছেনা আবার তার স্ত্রী একাধিক রোগে আক্রান্ত। স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ দিতে দিতে সহায়-সম্পত্তি সব হারিয়েছেন আবার পড়েছেনও মহা ঋণে। শিক্ষক নাজমুল হকের নিকট থেকে জানা যায় 

তার স্ত্রী মাহমুদা স্বপ্না ২০০৮ সালে প্রথম ডেলিভারির (৩-৪)দিন পূর্বে প্রথমত:শ্বাসকষ্ট হয়। ২০১৩ সালে ২য় সন্তান গর্ভাবস্থায় অনেক ঝুঁকি ছিল। ২০১৪ সালে প্রথমত ব্রেইন ষ্টৌক হয়। এবং সুস্থ হওয়ার পর পরই আবার মেরুদণ্ডতে সমস্যা হয়। দীর্ঘ (৫-৬)মাস প্যারালাইসিস এর মতো পরে থাকে। এরই মধ্যে ধরা পরে থ্যালাসেমিয়া। আর থ্যালাসেমিয়ার কারণে ডাক্তারগণ অপারেশনে অপারগতা প্রকাশ করেন। নাজমুল হক বাংলাদেশের নামকরা (৮-১০)জন চিকিৎসকে দেখিয়ে আশানুরূপ ফলাফল না পেয়ে,২০১৭ সালে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে ভারতের বেলুরে অবস্থিত CMC(Christian Medical College) নিয়ে যান। এবং ওখানেও অপারেশন করতে পারেনি থ্যালাসেমিয়ার জন্য।

কিন্তু ডাক্তারগণ মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসা পত্র দেন এবং কিছুটা সুস্থও হয়৷ এতে তার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছিল। ভারতে চিকিৎসা সেবা নিতে তার প্রতিষ্ঠান ফিরোজা বাশার আইডিয়াল কলেজ প্রশাসন এবং সহকর্মীগণ তাকে আর্থিকভাবে সহয়তা করেন। নাজমুল হক থেমে নেই স্ত্রীকে সুস্থ করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পারিবারিক ঋণ ও সহকর্মীদের ঋণে তিনি আজ জর্জরিত(৮-৯ লক্ষ টাকা ঋণগ্রস্ত )। উপরোক্ত রোগের শক্তিশালী ঔষধ খেয়ে বর্তমানে পাকস্থলীর আলসার, লিভার সমস্যায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট এর জন্য ইতিমধ্যে ফুসফুসের ইনফেকশন ও হয়৷ থ্যালাসেমিয়া, স্পাইন, লিভার, আলসার, ব্রেইন ষ্টোক, এ্যাজমা এই সব রোগের ঔষধ বাবদ প্রতিমাসে (১৫,০০০-২০,০০০) টাকা ( ডাক্তার এবং রিপোর্ট খরচ বাদে) খরচ হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে। জনাব নাজমুল হক নিজেও উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর ব্যায়বহুল চিকিৎসা, বাসাভাড়া, প্রথম ও ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়ুয়া দুজন কন্যাসন্তান এর লেখাপড়া, বৃদ্ধ পিতামাতাকে দেখাশোনা করতে গিয়ে সহায় সম্বল সব হারিয়ে আজ তিনি নিঃস্ব। পাওনাদারগণ পাওনা পরিশোধ এর চাপ দিচ্ছেন কিন্তু পারিবারিকভাবে পাওনা পরিশোধ করার অবস্থা নেই তার। প্রতিষ্ঠানের বেতন এবং প্রাইভেট টিউশনি দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনরকম সংসার চালিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে প্রাইভেট টিউশন বন্ধ থাকায় তিনি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন। না পারছেন পারিবারিক খরচ চালাতে, না পারছেন স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে, না পারছেন পাওনাদারের ঋণ পরিশোধ করতে। আজ তিনি বড়ই অসহায়।

“মানুষ মানুষেরই জন্য ” আমরা কি পারিনা এই অসহায় এক শিক্ষকের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে, আমাদের সামান্য মানবিক সাহায্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে একজন সংগ্রামী মানুষকে একটু আত্নবিশ্বাসী করতে। আমাদের একটু মানবিক সাহায্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ করতে পারে দুটো নাবালক শিশুর মাকে। আমাদের সামান্য মানবিক সাহায্যে হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে ৬ সদস্যের একটা পরিবারকে। মোঃ নাজমুল হককে সাহায্য করতে আপনার সহযোগিতার মনোভাবই যতেষ্ট। আপনার, আমার, সবার,সামান্য সহযোগিতা আজ উনার খুব প্রয়োজন। সমাজের সকল শ্রেণীর হৃদয়বান মানুষসহ শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক বাতায়ন, শিক্ষক ফোরাম, আমাদের ফোরাম সকল সদস্যদের কাছে সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সাহায্য পাঠাতে পারেন: Md. Najmul Hoq, A/C: 25815125111, Dutch Bangla Bank Ltd, Mohammadpur Brh,Dhaka অথবা, বিকাশ করতে পারেন: (পারসোনাল) 01876337900 অথবা 0171097623

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর