মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:১৯ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

অবকাঠামো নেই অথচ দুই বছরেই খোলা হয়েছে ১১টি বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ১০ আগস্ট ২০১৮  

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই বছরেই খোলা হয়েছে ১১টি বিভাগ। যদিও নতুন চালু এসব বিভাগের নিজস্ব শ্রেণীকক্ষ নেই। নিজস্ব ল্যাবের পাশাপাশি ব্যবস্থা হয়নি শিক্ষকদের বসার কক্ষেরও। এ অবকাঠামো সংকটের মধ্যেই প্রস্তুতি চলছে আরো আটটি বিভাগ খোলার। অভিযোগ রয়েছে, নতুন বিভাগ খোলার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দল ভারী করার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন খোলা বিভাগগুলোর একটি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অধীন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট। গত শিক্ষাবর্ষেই বিভাগটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। যদিও পাঠদানের জন্য বিভাগটির নিজস্ব কোনো শ্রেণীকক্ষ নেই। মার্কেটিং বিভাগের একটি কক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। এমনকি নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বসার কোনো ব্যবস্থাও নেই বিভাগটিতে।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মার্কেটিং বিভাগের কাছ থেকে একটি কক্ষ কিছুদিনের জন্য নিয়েছি। সেখানেই ক্লাস চলছে। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষকের আলাদা কক্ষ থাকা দরকার। কিন্তু বিভাগটি নতুন হওয়ায় এখনো শিক্ষকদের আলাদা কক্ষ বরাদ্দ দিতে পারেনি।

নতুন চালু হওয়া বিভাগগুলোর আরেকটি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং। বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক উপকরণগুলোর একটি ল্যাব থাকা জরুরি। যদিও নিজস্ব কোনো ল্যাবের ব্যবস্থা এখনো হয়নি বিভাগটিতে।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোয়াদ্দার বলেন, প্রথম থেকেই আমাদের ল্যাবের সংকট ছিল। এখন প্রথম বর্ষের পরীক্ষা প্রায় শেষের দিকে। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা রসায়ন বিভাগের একটি ল্যাব ব্যবহার করেছি। আর বায়োমেডিকেলের জন্য একটি ল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে করেছি। বিভাগের নিজস্ব ল্যাবের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

একই চিত্র নতুন চালু হওয়া ফার্মেসি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগেও। নিজস্ব শ্রেণীকক্ষ না থাকায় এসব বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা চলছে অন্য বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান বলেন, একেবারে প্রস্তুতি ছাড়াই যে বিভাগগুলো খোলা হয়েছে এমন নয়। আমাদের যে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন নির্মাণাধীন, সেটি প্রায় শেষের দিকে। এটি হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম সংকট ও শিক্ষকদের রুমের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর ল্যাব সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা আরব বিশ্ব থেকে বেশকিছু অর্থ পেয়েছি। এ অর্থের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার জন্য একটি অত্যাধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ সম্পর্কে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এটি হয়ে গেলে আশা করি এ সমস্যা আর থাকবে না। এছাড়া আমরা সম্প্রতি একনেক কর্তৃক ৫০০ কোটি টাকার যে মেগা প্রজেক্টের অনুমোদন পেয়েছি, সেটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তবে নতুন বিভাগ খোলার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দল ভারী করার একটি প্রবণতা রয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরই কেউ কেউ। নতুন বিভাগগুলোয় এ বছর ৪৯ জন শিক্ষকও নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নাম প্রকাশ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, নতুন বিভাগগুলোর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিকসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয়েছে। প্রস্তুতি ছাড়াই শুধু শিক্ষক নিয়োগের জন্য যদি এভাবে নতুন বিভাগ খোলা হয়, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সংকট তৈরি করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কখনই তা শুভকর নয়।

এদিকে নতুন বিভাগ খোলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। নতুন এসব বিভাগ চালু হওয়ায় গত এক বছরে ৫৫০টি আসন বাড়ানো হয়েছে। শ্রেণীকক্ষ ও ল্যাব সংকটের পাশাপাশি আবাসন সংকটের মধ্যেও পড়তে হচ্ছে এসব শিক্ষার্থীকে।

নতুন একটি বিভাগে ভর্তি হওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, তাদের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণীকক্ষ নেই। কখনো বিভাগের শ্রেণীকক্ষে, কখনো আবার টিএসসিসির করিডোরেও ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

প্রকট অবকাঠামো সংকটের মধ্যেই বিভিন্ন অনুষদের অধীনে খোলা হচ্ছে আরো আটটি বিভাগ। বিভাগগুলো হলো— থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস, ফাইন আর্টস, ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন, মাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং। পাশাপাশি মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ নামে একটি ইনস্টিটিউট খোলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে বিভাগ খোলাই ভালো। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আগেই বিভাগ খোলা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এলে একনেকের মাধ্যমে বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা খুবই কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন বিভাগ অনুমোদন না দেয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানও।

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে। ওই সময় চারটি বিভাগের অধীনে শিক্ষক ছিলেন আটজন ও শিক্ষার্থী ৩০০। এরপর ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত তিন দশকে বিভাগ খোলা হয়েছে ২২টি। সে হিসাবে এ সময়ে বছরপ্রতি গড়ে একটি বিভাগও খোলা হয়নি। যদিও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে এসে তিনটি নতুন বিভাগ খোলা হয়। আর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে খোলা হয়েছে আটটি বিভাগ। সব মিলিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভাগ রয়েছে ৩৩টি।

বণিক বার্তা

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর