বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯ ১০:৩৮ এএম


অফিস সহকারী ১০ম গ্রেড বনাম সিডর, আয়লা, ফনী!

রাকিব

প্রকাশিত: ১১:৪১, ১৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১১:৪২, ১৪ মে ২০১৯

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গত ৯ মে ২০১৯ তারিখে সচিবালয়ের বাইরে সরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও সমমানের পদগুলোর ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে লক্ষ্যে গ্রেড বৈষম্য দূর করার জন্য পদবি পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা করার পাশাপাশি বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশের কথা বলা মাত্রই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু কিছু শিক্ষকরা ফেসবুকে ঝড় তুলেছে। এই ঝড়ের গতিতে ফেসবুকে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। যারা ঝড় তুলেছেন তারাই আবার নিজেদের জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন এবং কিছু না জেনে, না বুঝেই বিভিন্ন উল্টোপাল্টা বলতে শুরু করলেন যেমন....

কেরানী/অফিস সহকারী ১০ম গ্রেড!!!
রাতের অন্ধকারে কিছু শিক্ষক না জেনে, না শুনে, না বুঝেই ভয়ঙ্কর সিডর, আয়লা, ফনীর মত অফিস সহকারীদের হঠাৎ আঘাত হানতে শুরু করলো। গুজব ছড়িয়ে দেয়া হলো অফিস সহকারী নাকি ১০ম গ্রেড পেয়ে যাবেন। সশিদের মাথায় হাত। সবার ঘুম হারাম হলো এবং খেলা পুরোদমে শুরু হয়ে গেল।
১) উঃ দিক থেকে একজন বললো আজব দেশের গজব নীতি!! এইচএসসি পাশ অফিস সহকারী -১০ম গ্রেড! আর স্নাতক যোগ্যতায় সহকারী শিক্ষক ১৫তম গ্রেড! এটাই আমার সোনার বাংলা।
২) দঃ দিকের শিক্ষক বললো বড় বাবু এখন আমাদের স্যার! কি আজব ডিপার্টমেন্ট।
৩) পূর্ব থেকে একজন হুঙ্কার দিয়ে বললো কেরানিরা যদি ১০ম গ্রেড পায় তো সশিরা ৯ম গ্রেড পাওয়ার যোগ্য,কারণ তাদের উপরি নাই।।
৪) পশ্চিম দিক থেকে নির্দেশনা আসলো হায়রে দেশ কেরানির ১০ম গ্রেড অার শিক্ষা গুরুর ১৫তম গ্রেড।
৫) এই যখন অবস্থা তখন মাঝখান থেকে একজন বললো আত্মহত্যা মহাপাপ তাছাড়া এই মূহুর্তে আত্মহত্যা করতাম।

একটু পিছনে ফিরে তাকান সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে কাদের অবস্থা কোথায় ছিল? ২০০৫ সালে অফিস সহকারী ছিল ১৬ গ্রেডের আপনাদের ছিল ১৮ গ্রেড। বর্তমান আপনাদের ১৪ তম বাট অফিস সহকারীদের ১৬ তমই আছে। আবার আপনারা ১১ তম গ্রেডের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আমরা সবসময় দোয়া করি আপনাদের দাবি পূরণ হোক তাহলে আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের আমরা রেফারেন্স হিসেবে দেখাতে পারবো এই বলে যে আমাদের দাবিও মানতেই হবে। তবে আপনাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে তা হলোঃ
১) আপনাদের ৬০% মহিলা যাদের যোগ্যতা এস এস সি। এখন হয়তো আস্তে আস্তে সংশোধন করা হচ্ছে।
২) ৪৬০০০ পুল শিক্ষক ছিল যাদের মধ্যে ৯০% খুব কম মেধাবী।
৩) ২৬০০০ বেসরকারি স্কুল সবে মাত্র সরকারি হয়েছে শিক্ষক প্রায় ১২৫০০০ হবে এর মধ্যে ৯৫% এস এস সি পাস। সরকার এদের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে দূর্বল ও কম যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০% নতুন পুরাতন বিদ্যালয়ে বদলীর আদেশ জারি করেছে।

স্কুল টাইম সোয়া সাত ঘণ্টা!!!

সকালে এক শিক্ষক বললেন শ্রমিকের মতো আমাদের কর্মঘন্টা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুপুরে একদল বলছে সোয়া সাত ঘন্টা মামুলি ব্যাপার ২৪ ঘন্টাই থাকতে চাই।
বিকেলে আরেক দল বললো ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্তই যথেষ্ট যেহেতু বেশির ভাগ শিক্ষক নারী; তাই তাদের সন্তানদের সময় দেয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে ভাবা উচিত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক মেশিন!!!
গুণী এক শিক্ষক বললেন ঘোড়াকে জোর করে পানিতে নামানো যায় কিন্তু পানি পান করানো যায়না!
আরেক জ্ঞানী শিক্ষক বললেন বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন দিয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব- এ কথা আপনাকে কে বলেছে? অথচ বেশিরভাগ শিক্ষক এটাকে খুব সহজেই মেনে নিতে পারছেন কিন্তু মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিক্ষকের অনীহা প্রকাশ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে হাসি তামাশা শুরু করেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেন/ নার্সারি চালু!!!
ডাক্তারের অবহেলায় যেমন অলিগলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার/ ক্লিনিক গড়ে উঠেছে তেমনি আপনাদের কারনেই.......
দেশের নানা প্রান্তে কেজি স্কুলের রমরমা ব্যবসা ✓প্রাইভেটের নামে কোচিং বাণিজ্য

ভর্তি বাণিজ্য
অতিরিক্ত ভর্তি/পরীক্ষা ফি ইত্যাদির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পড়ছে। সরকার কেজি স্কুল ঠেকাতে নার্সারি চালু করতে যাচ্ছে।

এতো কিছুর পরেও কখনো দেখেছেন অফিস সহকারীরা আপনাদের বিরুদ্ধে চিল্লাচিল্লি করেছে? করে নাই কারণ তাদের চিল্লাচিল্লি করার সময় নাই। একটা শিক্ষা অফিসে একজন অফিস সহকারী থাকে যাকে উপজেলার সকল শিক্ষকদের সকল প্রকার কাজ করতে হয় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। হয়রানির কথা বলছেন আগে আপনাদের শিক্ষক সমিতির নেতাদের সৎ রাখতে চেষ্টা করুন। সকল প্রকার দূর্নীতির মূল উৎস আপনাদের প্রিয় লিডার সাহেবরা। উপজেলায় প্রায় ২০০-৩০০ শিক্ষক মাত্র শিক্ষা অফিসের ২/৩ জন কর্মচারীদের কাছে হয়রানি হতে হয় একমাত্র কারণ নেতা। আগে নিজেদের চরকায় তেল দিয়ে নেতাদের সামলান দেখবেন শিক্ষা অফিসের কেরানী সাহেব কিছুই করতে পারবে না। কেরানী বাবু কাজ করতে বাধ্য বাট উপরি নিতে বাধ্য নয়। আপনারা না দিলে তার নেয়ার ক্ষমতা নেই। তাছাড়া যে দেয় আর যে নেয় উভয় সমান অপরাধী। অপরাধ করলে শাস্তি দেয়া হোক আমরা সবাই চাই।

একটা কথা মনে রাখবেন কেরানী বাবু প্রশাসন শাখার কর্মচারী আর আপনারা শিক্ষক। কেরানি বাবুর কাছে আপনি কেন আপনি মারা গেলেও আপনার পরিবারের সদস্যদের তার কাছে যেতে হবে। সে কিন্তু আপনার কাছে যাবে না। অনেকেই না বুঝে অযৌক্তিক সমালোচনা করে নিজেরাই নিজেদের মর্যাদাকে নিচে নামিয়ে ফেলছেন। প্রধান সহকারী আর অফিস সহকারী/কেরানি, অফিস সহায়ক বা পিয়ন পদটা এক না। আপনারা না ভেবে না বুঝে যে ভাবে অফিস সহকারীদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে তাতে শিক্ষা অফিসের বারান্দায় যেতে পারবেন না যা মনে হচ্ছে।
নিউজ সত্য যেনে প্রচার করুন প্রধান সহকারী আর অফিস সহকারী অনেক ডিফারেন্স। যেমন ডিফারেন্স প্রাথমিক শিক্ষক আর মাধ্যমিক শিক্ষক।

দেখুন আপনার শিক্ষক হয়ে যদি নিজেদের পেশা কে অসম্মান করেন তাহলে অন্যরা কিভাবে আপনাদের সম্মান করবে?

ফেসবুক থেকে নেয়া

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর