মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২০ ৩:৫৩ এএম


অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন সমস্যার যে সমাধান দিলেন সাবেক পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:১৪, ১৯ মে ২০২০   আপডেট: ০৭:৪৪, ২০ মে ২০২০

অনলাইনে এমপিওর আবেদনের সময় আরও বাড়িয়ে দেয়া উচিত। আবেদন বাড়িয়ে দিয়ে সবার এমপিও একসাথে দেয়া উচিত। না হলে বকেয়ার দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করবে এবং শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হবে। আবেদনের সময় যদি ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায় তাহলে সবার এমপিও একসাথে দেয়া যাবে। একসাথে আবেদন করলে উদ্বৃত্ত টাকাও ফেরত দিতে হবে না। সরকারের কোনো সমস্যা হবে না।

এডুকেশন বাংলার নিয়মিত আয়োজন `শিক্ষা সংলাপ` অনুষ্ঠানে লাইভে এসব কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক প্রফেসর মো. এলিয়াছ হোসেন।

তিনি আরও বলেন, একটি এমপিওর আবেদন করতে হলে একজনের বিপরীতে ১২ থেকে ২০টি কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়। ফলে আবেদনকৃত ফাইলটি অনেক ভারি হয়ে যায়। স্বভাবিকভাবেই ফাইল আপলোড হতে সার্ভারে ফাইল জমা নেয়ার সময় সমস্যা দেখা দেয়।

প্রফেসর এলিয়াছ আরও বলেন, বর্তমান সার্ভার সিস্টেমে একসাথে অনেক আবেদন লোড নেয়ার সক্ষমতা নেই। এই সার্ভারে পুরাতন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছরে অল্প কিছু আবেদন করতো । এখন একসাথে অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করবে।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে নতুন যারা আবেদন করছে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিরা সবাই এই লাইনে নতুন। তাছাড়া লকডাউনে তারা কোনো জায়গায় কাজ করতে পারছেন না । আর পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিরা নিয়মিতই এই কাজটি করে আসছে। আমি মনে করি অনলাইনে এমপিওর আবেদনে এত কমসময় দেয়াটা ভালো সিদ্ধান্ত হয় নি।

উল্লেখ্য, ঈদের আগে নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া দুই হাজার ৬১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে মাত্র পাঁচ হাজার ৯৪ জন বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠক শেষে পাঁচ হাজার ৯৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া দুই হাজার ৬১৫ প্রতিষ্ঠানে প্যাটার্নভুক্ত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু ২ থেকে ৫ মে পর্যন্ত মাত্র চার দিন সময় দেওয়ায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষক-কর্মচারীই আবেদন করতে পারেননি। আবার সার্ভার-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় অনেক শিক্ষক-কর্মচারী কাগজপত্র নিয়ে বসে থাকলেও অনলাইনে আবেদন সাবমিট করতে পারেননি।

তবে মাউশি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দ্বিতীয় দফায় আগামী ২২ মে থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, তা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। ৪ জুনের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা এবং ৮ জুনের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। ১৫ জুনের মধ্যে এমপিও আবেদনের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে আঞ্চলিক উপ-পরিচালকদের। এরপর দু-চার দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় বৈঠক করে দ্বিতীয় দফায় এমপিও দেওয়া হবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর