বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ৭:৪২ এএম


অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল বাগেরহাট মহিলা কলেজ

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৪৩, ৩ নভেম্বর ২০১৯  

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো শনিবার (০২ নভেম্বর) ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেছেন বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে কলেজ চত্বরে মিছিল করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করলে রোববার থেকে রাজপথে মিছিল করার হুমকি দেন। আর অধ্যক্ষ বলছেন, পদত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

এদিকে, কলেজের চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকেন অধ্যক্ষ ড. এসএম রফিকুল ইসলাম। সভায় কোনো শিক্ষক অংশগ্রহণ করেননি।

এ সময় অধ্যক্ষের দাবি, শিক্ষকরা সভায় অংশগ্রহণ না করে, অনুমতি ছাড়াই কলেজ থেকে বের হয়ে গেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা যেকোনো মূল্যে অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই। তিনি এখানে থাকলে আমাদের লেখাপড়া হবে না। আমরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব না। রোববার যদি অধ্যক্ষ স্যার কলেজে থাকেন তাহলে আমরা তার অপসারণের দাবিতে রাজপথে মিছিল করব।

মিম, শুকরিয়া, তিথি ও সাদিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার আন্দোলনের পরে স্যার তার অবস্থান থেকে একটুও নড়েননি। বরং হোস্টেলের মেয়েদের আন্দোলনে আসতে দিচ্ছেন না। আন্দোলনে আসলে তাদের হোস্টেল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি এই আন্দোলন নস্যাৎ করতে অধ্যক্ষের তরফ থেকে হোস্টেলের মেয়েদের খাওয়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।


অধ্যক্ষ ড. এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্বে কাল্পনিক কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আমার পরিবারকে জড়িয়ে নানা অপ্রচার করছেন কতিপয় কিছু শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের আমার কোনো কথা শুনতে দেয়া হচ্ছে না। কলেজের চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছিলাম। কোনো শিক্ষক সভায় অংশগ্রহণ করেন নি। বরং সকল শিক্ষকরা আমাকে না বলে কলেজের বাইরে চলে গেছেন। আমি চাই কলেজের চলমান সংকট নিরসন হোক। এজন্য ইতোমধ্যে আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।

রোববার থেকে যদি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না আসেন, তাহলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো, মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলে জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক সাহানুর আক্তারকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এছাড়া কলেজের উপাধ্যক্ষ ঝর্ণা হালদারসহ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তারা কলেজের সংকটের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার (৩০ অক্টোবর) বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস এম রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থণ জানিয়ে ৭২ ঘণ্টা মধ্যে তার অপসারণ না হলে কলেজের সকল কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা হতে বিরত থাকার ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর