শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৩৭ পিএম


অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই ল্যাপটপ,স্মার্টফোন

মোজাহেদুল ইসলাম

প্রকাশিত: ০৭:৪৬, ১৭ জুন ২০২০   আপডেট: ০৭:৫১, ১৮ জুন ২০২০

করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ১৬ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর এপ্রিল পর্যন্ত ঈদসহ নানা ছুটির কারণে মে মাস থেকেই অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কাজ শুরু করে অনেক স্কুল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় আবারো স্কুল- কলেজ খোলার সময়সীমা বাড়লো। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী ৬ আগস্ট খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

অনলাইনে পাঠদান করছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) মাধ্যমিক শ্রেণিগুলোকে পাঠদান করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী ৮টি ক্লাস রাখা হয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী ও সাতক্ষীরাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে নিজেরাই অনলাইন শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু করেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের চেয়ে বেসরকারি স্কুলগুলো বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়াম বা উভয় মাধ্যমের পরিচিত স্কুলগুলো ফেসবুক বা জুম ব্যবহার করে অনলাইন পাঠদান শুরু করে আসছে। তবে শহরাঞ্চলে ঠিক কত স্কুল অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে আর কতগুলোতে চালু করা যায়নি তার কোনো হিসেব নেই।

শহরের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের সুবিধা ভোগ করতে পারলেও শিক্ষা গ্রহণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা। গ্রামের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশরই নেই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা স্মার্ট ডিভাই। যাদের স্মার্টফোন রয়েছে তারাও ইন্টারনেটের সহজ ব্যবহার সুবিধার অভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। শহরে ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট থাকায় ৫ থেকে ৬শ’ টাকায় আনলিমিডেট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে। অন্য দিকে গ্রামে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা ব্রডব্যান্ড সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। গ্রামের শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের একমাত্র ভরসা মোবাইল ইন্টারনেট। মোবাইল ইন্টারনেটের ডাটা প্যাকেজগুলো এমন, তা ব্যবহার

করা বেশ ব্যয়বহুল। অনলাইনে মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি ক্লাস গ্রহণ করতে গেলে ৭শ’ থেকে ১ হাজার মেগাবাইট চলে যায়, যা গ্রামে বসবাসকারী একজন শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষে এ খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য।

অনলাইন ক্লাসে আরও একটা প্রয়োজনীয় উপকরণ হলো টেলিভিশন। শহরের শিক্ষার্থীদের প্রায় সবার বাসায় টেলিভিশন থাকলেও গ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাসায় নেই। যেখানে স্মার্টফোনের ডাটা চালানো নিয়ে গ্রামের শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছে সেখানে স্মার্ট টেলিভিশন তো স্বপ্নের বিষয়।

ঢাকায় অনলাইন ও অন্য জায়গায় রেকর্ডেড ক্লাস

স্কুল কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় ঢাকার অনেকগুলো স্কুলে অনলাইনে শিক্ষাদান করা হচ্ছে সরাসরি। কিন্তু ঢাকার বাইরে যেখানে ইন্টারনেট আছে সেখানে রেকর্ডেড ক্লাসগুলো পাচ্ছে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। এর বাইরে মূলত সংসদ টিভিতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠদান করা হয়। অনেক স্কুল আবার নিজেদের ফেসবুক বা ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিদিনকার ক্লাসগুলো পরে আপলোড করে দিচ্ছে। সরকারি হিসেবে দেশে প্রাথমিক স্কুল আছ ৬৪ হাজার আর অন্যদিকে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মাধ্যমিক স্কুল আছে আরও সতের হাজারের মতো। আর কলেজ বা মহাবিদ্যালয় আছে প্রায় আড়াই হাজার। আর সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। যদিও এর মধ্যে অল্প একটি অংশই এই করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে আর টিভি দেখার সুযোগ আছে সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

অর্থাত্ এখনো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমের আওতার বাইরেই রয়ে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিহউল্লাহ বিবিসিকে জানিয়েছেন, কারা ইন্টারনেট ও টিভির আওতায় আছে এবং বাসায় কার কোন ধরণের ফোন আছে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি ঠিক যে অনেকেই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। তবে এখানে সামর্থ্যের বিষয় জড়িত। তাই আমরা অনেকগুলো বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। সূত্র :এনডি টিভি ও বিবিসি

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর