রবিবার ১২ জুলাই, ২০২০ ১২:০১ পিএম


বেসরকারী শিক্ষক অবসর সুবিধা: ৪% কর্তন না করেও অর্থসংস্থান সম্ভব

এনামুল ইসলাম মাসুদ

প্রকাশিত: ১১:১৯, ২২ মে ২০১৮   আপডেট: ১৩:২৩, ২২ মে ২০১৮

সরকারি চাকুরিজীবীদের চাকুরী পরবর্তী আর্থিক সুবিধা প্রদান করতে পেনশন চালু রয়েছে। বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারিদের চাকুরি পরবর্তী সময়ে অার্থিক সুবিধা প্রদান করার জন্য রয়েছে অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট। চাকুরিরত বেসরকারী শিক্ষকদের এমপিও এর অংশ হতে ৬% (অবসর ৪% ও কল্যাণ ২%) কেটে নিয়ে এবং সরকার হতে থোক বরাদ্দ দিয়ে বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই যৎসামান্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ মজুদ না থাকায় ২০১৫ সালের পর হতে যে সমস্ত সম্মাণিত শিক্ষক কর্মচারি অবসরে গিয়েছেন তাদের আবেদন পেন্ডিং আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কষ্টের। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবসর বোর্ড ও কল্যান ট্রাস্টের সদস্যদের সম্মতিতে গত বছর জুন মাসে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে চাকুরিরত বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিও হতে অতিরিক্ত আরো ৪% কর্তনের প্রজ্ঞাপন জারী করেন। যদিও শিক্ষকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে মন্ত্রণালয় উক্ত প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করেন।

ইদানিং বিভিন্ন মারফত জানা যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উক্ত প্রজ্ঞাপনটি আবারো চালু করতে যাচ্ছে। শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত ৪% কর্তন হবে অনেকটাই অমানবিক। কারণ তারা ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, বৈশাখি ভাতা পুর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা হতে বঞ্চিত।

অবসর বোর্ড ও কল্যান ট্রাস্টে বাড়তি অর্থ শিক্ষকদের এমপিও হতে না কেটেও সংস্থান করা সম্ভব। বাংলাদেশে এমপিওভূক্ত শিক্ষক আছে মোট ৪৮৯৭৭৭ জন। অতিরিক্ত ৪% গড়ে জনপ্রতি ৮০০ টাকা করে কাটলে বছরে অার্থিক সংস্থান হবে ৩৯ কোটি ১৮ লক্ষ ২১ হাজার ৬শত টাকা।

বাংলাদেশে এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে মোট শিক্ষার্থী আছে ১,৬২,৩৩,৭২৪ জন। প্রতিবছর ভর্তির সময় সেশন চার্জের সময় শিক্ষার্থী প্রতি ৫০ টাকা করে অবসর ও কল্যানের জন্য করে নিলে মোট সংস্থান হবে ৮১কোটি ১৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ২শত টাকা। প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষা দেয় প্রায় ৬০ লক্ষ শিক্ষার্থী। ফরম ফিলাপের সময় উক্ত বোর্ড দুটির জন্য ১০০ টাকা করে নিলে বছরে সংস্থান হবে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দুই খাত থেকে সংস্থান হবে প্রায় ১৪১ কোটি টাকারও বেশি।

তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার প্রস্তাবটি হিসেবে নিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের অতিরিক্ত ৪% কর্তন হতে মুক্তি দিন এবং সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি দ্রুত ও নিশ্চিত করুন। (প্রস্তাবনাটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত)

এনামুল ইসলাম মাসুদের ফেসবুক থেকে নেয়া
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম, কেন্দ্রীয় কমিটি।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর